Durga Puja: শারদোৎসবে সামিল অসুর জনজাতির নতুন প্রজন্ম, বদলাচ্ছে বহু বছরের রীতি
Asur Community Durga Puja: অসুর জনজাতির বসতি শুধু ক্যারনেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরাকাটা, বানারহাট, মেটেলি-সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের বসবাস রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানেও রয়েছে পরিচিত ‘অসুর লাইন’। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা-বাগানকেন্দ্রিক এলাকায় বসবাসকারী এই জনজাতির জীবনযাত্রার সঙ্গেও চা-বাগানের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।

জলপাইগুড়ি: এতদিন দুর্গাপুজোর কয়েকদিন ‘নীরবে’ কাটাতেন তাঁরা। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই রীতি। শারদোৎসবের আনন্দে ধীরে ধীরে সামিল হচ্ছে অসুর জনজাতির নতুন প্রজন্ম। দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও রীতি অনুযায়ী দুর্গাপুজোর কয়েকটি দিন নিজেদের ঘরবন্দি করে রাখত এই জনজাতির বহু পরিবার। ঘর কালো কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখার পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমার মুখও দর্শন করত না তারা। অসুর সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার হাতে বধ হওয়া মহিষাসুর তাঁদের পূর্বপুরুষ। সেই বিশ্বাস থেকেই দুর্গাপুজোর দিনগুলিকে তাঁরা শোকের সময় হিসেবে পালন করতেন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই ছবি। শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মেলামেশা এবং নতুন প্রজন্মের পরিবর্তিত মানসিকতার কারণে দুর্গাপুজোকে সামাজিক উৎসব হিসেবেও গ্রহণ করছেন অসুর সম্প্রদায়ের বহু তরুণ-তরুণী।
জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের পাহাড়ে ঘেরা ক্যারন চা বাগানে শতাধিক অসুর পরিবারের বসবাস। কারি লাইন, খাপরা লাইন ও মতু লাইনে তাঁদের বসতি রয়েছে। একসময় পুজোর কয়েকটি দিন এই পরিবারগুলির দরজা প্রায় বন্ধ থাকত। বাড়িতে কালো কাপড় টাঙিয়ে রাখা হত। পুজোর মণ্ডপ তো দূরের কথা, প্রতিমার মুখ দেখাও ছিল তাঁদের কাছে নিষিদ্ধের মতো।
এখনও অসুর সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠ এবং পরিবারের বয়স্করা দুর্গাপ্রতিমার মুখ দর্শন করেন না বলে তাঁদের দাবি। দুর্গাপুজোর সময় তাঁরা নিজেদের পুরনো বিশ্বাস ও রীতি মেনেই বাড়িতে থাকেন এবং পুজোর মণ্ডপে যান না। পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও নিজস্ব বিশ্বাসের সঙ্গে এই রীতি এখনও তাঁদের জীবনে জড়িয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। অসুর পরিবারের শিশুরা সহপাঠীদের সঙ্গে বেড়াতে যায়, পুজোর মণ্ডপে যায় এবং প্রসাদও গ্রহণ করে। স্কুলে পড়াশোনা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের শিশুদের সঙ্গে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার ফলে তাদের সামাজিক পরিসরও বদলেছে। বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গাপুজোকেও তাঁরা সামাজিক উৎসব হিসেবে দেখছে। অসুর জনজাতির মাছুয়া অসুর, মগধ অসুররা বললেন, বড়রা এখনও পুজোর সময় বাড়িতে থাকলে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে যায়।
অসুর জনজাতির বসতি শুধু ক্যারনেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরাকাটা, বানারহাট, মেটেলি-সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের বসবাস রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানেও রয়েছে পরিচিত ‘অসুর লাইন’। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা-বাগানকেন্দ্রিক এলাকায় বসবাসকারী এই জনজাতির জীবনযাত্রার সঙ্গেও চা-বাগানের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।
ফলে একদিকে পূর্বপুরুষের বিশ্বাস আঁকড়ে থাকা বয়স্করা এখনও দুর্গাপ্রতিমার মুখ দর্শন থেকে দূরে থাকছেন, অন্যদিকে শিশুরা ও নতুন প্রজন্ম সহপাঠীদের সঙ্গে পুজোর আনন্দে মিশছে। পুরনো বিশ্বাসকে সঙ্গে রেখেই ধীরে ধীরে শারদোৎসবের সামাজিক আনন্দে মিশে যাচ্ছে অসুর জনজাতির নতুন প্রজন্ম।
