
ইডি অফিসাররা আক্রান্ত হওয়ার ৪৯ দিন পরও খোঁজ নেই শেখ শাহজাহানের। সন্দেশখালি এখনও উত্তপ্ত। কখনও নির্যাতনের অভিযোগ, কখনও জমি দখলের অভিযোগ তুলে দফায় দফায় চড়াও হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এই পরিস্থিতিতে সন্দেশখালিতে আজ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা। বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রীদেরও যাওয়ার কথা সন্দেশখালিতে।
কাঠপোল বাজার এলাকায় বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। সন্দেশখালি থানার তরফ থেকে লাগানো হচ্ছে ক্যামেরা। কাঠপোল এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এবং আরও দু’টি ক্যামেরা লাগানো হবে বলে জানালেন সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে আসা কর্মীরা।
তপ্ত সন্দেশখালি। কাঠপোল থেকে আজ বিকেলে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ধৃতদের নাম কামাল লস্কর ও মজিদ মোল্লা।
সন্দেশখালির এদিনের পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঠপোলে আরও পুলিশ বাহিনী নিয়ে আসা হচ্ছে। আনা হচ্ছে র্যাফও। এদিকে বিকেলে মিনাখা থানায় একপ্রস্থ বৈঠক করলেন এডিজি সাউথ বেঙ্গল। সঙ্গে ছিলেন আইজি ট্রাফিক। বৈঠক শেষে এবার থানা থেকে বেরিয়ে বেড়মজুরের দিকে যাচ্ছেন তাঁরা।
অভিযোগ ওঠে, গ্রামের নিরীহদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আর ঠিক সে সময়েই পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ। এক মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশি ভ্যানের বিরুদ্ধে। ওই মহিলা পায়ে গুরুতর চোট পান।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় পুলিশের ভ্যানের চাকা’, দমতে নারাজ সন্দেশখালি
ধামাখালির উদ্দেশে মহিলা উচ্চপদস্থ আইপএস আধিকারিকরা। ADG সাউথ বেঙ্গল সুপ্রতীম সরকার ফোর্স নিয়ে যাচ্ছেন সন্দেশখালির বেড়মজুর গ্রামে।
পুলিশের সামনে আছড়ে পড়ে কাঁদছেন গ্রামের মহিলারা। অভিযোগ, গ্রামের সেই মহিলার সন্তানকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তিনি হলেন, “আমার ছেলে পড়াশোনা করে। ভ্যান চালিয়ে পড়াশোনা করে, ওকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ।” পুলিশের সামনে আকুলিবিকুলি কান্না গ্রামের মহিলার।
ডিজি রাজীব কুমার ফিরতেই অ্যাকশন মোডে পুলিশ। গ্রামে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। আর তাতেই ফের ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন সন্দেশখালির মহিলারা। গ্রেফতারির প্রতিবাদে পুলিশকে ঘিরে গ্রামে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। গাছের গুঁড়ি হাতে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন মহিলারা। এই মুহূর্তে সন্দেশখালির পরিস্থিতি অত্যন্ত তপ্ত। সাঁকোর একপাশে পুলিশ, এক পাশে গ্রামের মহিলারা।
শনিবার সকালে সন্দেশখালিতে পৌঁছে যান ডিজি রাজীব কুমর। গ্রামে যেভাবে বাড়ি ভাঙচুর, আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটছে, তাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ডিজি। তিনি বলেন, “যাঁরা আইন ভাঙার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ হবে।”
শুক্রবার সকাল থেকে ফুঁসছে সন্দেশখালির বেড়মজুর। লাঠি, বাঁশ-হাতে রাস্তায় নেমেছেন গ্রামের মহিলারা। জনরোষে ফুটছে সন্দেশখালি, বেড়মজুর। শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ অজিত মাইতি, তোয়েব মোল্লাদের বিরুদ্ধে জমি দখল, মাছের ভেড়ি দখলের অভিযোগে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘ঘরে ঢুকে শাড়ি-ব্লাউজ ধরে টানে, খিমচে দেয়’, এবার শাহজাহান- ঘনিষ্ঠের স্ত্রী-মেয়ের সঙ্গেই… রূপ বদলাচ্ছে সন্দেশখালি
বেড়মজুরের কাছারিবাড়ি এলাকায় মারাত্মক অভিযোগ। শেখ শাহজাহানের ভাই তৃণমূল নেতা সিরাজউদ্দিন শেখ, অজিত মাইতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক পরিবারের ঘর অক্ষত রাখার জন্য ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হত। এই গ্যারান্টি বিমার মেয়াদ পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর রিনিউয়াল না করলে আবার ঘর ভাঙচুরের ফতোয়া জারি হত বলে অভিযোগ।
সন্দেশখালি যাওয়ার পথে এবার বাধা পেলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। সন্দেশখালির আগে ভোজেরহাটেই আটকানো হল লকেটকে। বিজেপি নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, সন্দেশখালিতে যখন ১৪৪ ধারা জারি আছে, তখন ভোজেরহাটে কেন আটকানো হল তাঁকে? পুলিশের সঙ্গে প্রবল বচসা শুরু হয় এদিন।
সন্দেশখালিতে পৌঁছে, থানায় গিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা। এরপর গ্রামে প্রবেশ করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মহিলা ও তিনজন পুরুষ।
কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে ঝাঁটা। এভাবেই রাস্তায় নেমেছেন মহিলারা। এক মহিলা বলেন, শাহজাহানের ভাই সিরাজের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ঘর ভাঙার পর বলেছিল কোর্টেও যাবি না, থানাতেও যাবি না। তৃণমূল নেতা অজিত মাইতির নির্দেশে এসব হচ্ছে বলে দাবি করছেন তাঁরা। অভিযোগ বিঘার পর বিঘা জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে ভেড়ি।
আজও সকাল থেকে গণবিক্ষোভে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। ঘর দেবে বলে টাকা খেয়েছিল…, ভোট দিতে গেলে হাত থেকে স্লিপ কেড়ে নেয় ওরা… এই সব অভিযোগ তুলেই ফুঁসছে সন্দেশখালির বেড়মজুর। শুক্রবার সকালে প্রবল বিক্ষোভের ছবি দেখা গেল এলাকায়। তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি ও তোয়াব মোল্লার ভেড়ির আলাঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সন্দেশখালিতে পৌঁছেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা। সকালেই মহিলা প্রতিনিধিরা এলাকায় পৌঁছে যান। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরা এলাকার মহিলাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে।