
ঠাকুরনগর: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাণাঘাট দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। জিতেছিলেন। এরপর ২০২৪ সালের মার্চের শুরুতে ফুল বদল করে যোগ দেন তৃণমূলে। লোকসভা নির্বাচনে রাণাঘাটে তৃণমূলের প্রার্থী হন। তবে হেরে যান। তবে তৃণমূলের টিকিটে রাণাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই মুকুটমণি অধিকারী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি ফের ফুল বদল করতে চলেছেন? শনিবার ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে এসে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। শান্তনুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর যেমন তাঁর বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তেমনই ঠাকুরবাড়ির আর এক সদস্য তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।
বিজেপিতে থাকাকালীন মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা মুকুটমণি শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই শান্তনুর সঙ্গেই এদিন সন্ধেয় মুকুটমণি আধ ঘণ্টা বৈঠক করলেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুকুটমণি অধিকারী বললেন, তিনি নতুন গাড়ি কিনেছেন। ঠাকুরবাড়িতে নতুন গাড়িতে পুজো দিতে এসেছিলেন। সেখানেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনাও খারিজ করে দেন তিনি। এমনকি জানান, ঠাকুরবাড়ির সদস্য তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের বাড়িতেও যান তিনি।
অন্যদিকে, মুকুটমণির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে শান্তনু ঠাকুরও বলেন, “এতে কোনও রাজনীতির বিষয় নেই। গাড়িতে পুজো দিতে এসে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। কোনও রাজনীতির কথা হয়নি। দলে ফেরা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”
কিন্তু, গোল বাধল অন্য জায়গায়। মুকুটমণি বলেছেন, তিনি মমতাবালা ঠাকুরের বাড়ি গিয়েছেন। তখন মমতাবালার মেয়ে তথা বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর বললেন, “আমাদের বাড়িতে আসেননি মুকুটমণি অধিকারী। এটা ঠাকুরবাড়ি। যে কেউ আসতে পারেন। কিন্তু কেন মিথ্যা কথা বললেন, এটা বুঝতে পারছি না।” মুকুটমণি অধিকারী দল পরিবর্তন করতে পারেন কি না, এ প্রসঙ্গে মধুপর্ণা বলেন, “তিনি বিজেপিতে যাবেন কি না, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।”