
আগরপাড়া: ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় ‘আরশোলারা’। বাম ও আরশোলাদের থেকে সাবধান থাকতে আগেই সাধারণ মানুষকে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। আর মঙ্গলবার আগরপাড়ায় একটি দুর্গাপুজোয় এসে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আরশোলা-ছারপোকারা দেশকে অস্থির করতে চায়।’ তবে ‘আরশোলা-ছারপোকাদের’ বাড়বাড়ন্ত রুখতে ‘হিট আছে’ বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
গতকাল আগরপাড়ার ইলিয়াস রোডে বিজেপি নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে ইলিয়াস রোডের ‘আমরা ক’জন ক্লাব’-র পুজোমণ্ডপে যান। সেখানে মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে ছিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
ওই পুজোমণ্ডপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের লক্ষ্যের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “প্রচুর কাজ করতে হবে। শিল্পে জোয়ার আনতে হবে। মা-বোনদের সুরক্ষা দিতে হবে, যাতে অভয়ার মতো ঘটনা না ঘটে। অনেক কাজ আমাদের।” পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “প্রায় ৫০ বছর ভারতের জাতীয় রাজনীতি থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিচ্ছিন্ন ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার ছিল না। এর ফলে উন্নয়ন পিছিয়ে ছিল। বর্ডার খোলা ছিল। বিহার, গুজরাট, মহারাষ্ট্রের লোকেদের আমরা বাহারি বলেছি। আর বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আমরা জামাই আদর করেছি। যাক, এগুলো সব অতীত।”
‘ককরোচদের’ আন্দোলনকে নিশানা-
এরপরই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাবণ বধ করতে গিয়ে বলেছেন, সমস্ত রাষ্ট্রবাদী শক্তিকে এক হতে হবে। কারণ, আমরা মনে করি, দেশ আগে। এখানে মৌলবাদী গোষ্ঠী, আরশোলা-ছারপোকা এরা আমাদের দেশকে অস্থির করতে চায়। আজকে আমরা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছি। আগে আমরা সামরিক অস্ত্র কিনতাম বিদেশ থেকে। এখন ৫০টা দেশ ভারতে আসছে ব্রহ্মস কেনার জন্য। আজকে এই পরিবর্তন হয়েছে।”
দশেরার গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দশেরা শুধু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। রাবণ দহনের মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হয় অশুভ শক্তিকে বিনাস করার। আসুন আমরা সবাই মিলে এই অশুভ শক্তি বিনাশ করি। এবং পানিহাটির মানুষের যে প্রত্যাশা, আমরা সেটা যেন পূরণ করতে পারি। মানুষ শুধু পতাকা আর মুখের বদল চাননি। মানুষ ব্যবস্থারও বদল চেয়েছেন। যেটা আমাদের করে দেখাতে হবে।”
পুজোমণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপূজার নিরঞ্জনে যাতে আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সাধারণ মানুষকে প্রশাসনকে সাহায্যের আবেদন জানান। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর আরশোলা মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আরশোলাদের ‘বাড়বাড়ন্ত’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তার জন্য হিট আছে।” এর বেশি আর কিছু বললেন না তিনি।