
উত্তর ২৪ পরগনা: বিধানসভায় (West Bengal Assembly) সোমবারের গোলমাল নিয়ে এবার বিজেপিকে নিশানা করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (MLA Madan Mitra)। মদনের দাবি, কোনও বিজেপির বিধায়কেরই কিছু হয়নি। ‘জাল সার্টিফিকেট’ তৈরি করতে তাঁরা হাসপাতালে গিয়েছিল বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন মদন মিত্র। একইসঙ্গে বিরোধীদের বার্তা দেন তৃণমূল বিধায়ক, ‘এক মাঘে শীত যায় না।’ অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, সোমবারের ঘটনায় তাদের দলের বিধায়ক মনোজ টিগ্গার আঘাত গুরুতর। পাঁজরে চোট লাগার কথাও বলা হয়। পাল্টা রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন একটি এক্স-রে’র প্লেট টুইটারে শেয়ার করে দাবি করেন, মনোজ টিগ্গার কোথাও কোনও ‘ফ্র্যাকচার’ হয়নি।
সোমবার বিধানসভার ঝামেলা প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, “বিজেপির বিধায়করা যা করেছেন, তাতে ওনাদের পুতিনের হাত থেকে সংবর্ধনা পাওয়া উচিৎ। বিধানসভায় সোমবার যা হয়েছে তা নিয়ে রাজ্যের কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। রাজ্যবাসী রামপুরহাট, ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে সমব্যথী।” একইসঙ্গে মদনের বক্তব্য, “বিজেপির বিধায়কদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউই ওনারা আহত হননি। পিজিতে গিয়েছিলেন ১৫ জন। জাল সার্টিফিকেট করে দিতে অনুরোধ করেছিলেন। ডাক্তাররা টিটেনাস বা ভিটামিন দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ আমাদের দু’জন হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন। তবে এটা বিজেপি ঠিক করেনি। এক মাঘে শীত যায় না।”
সোমবার বিধানসভা এই অধিবেশনের শেষ দিন ছিল। সেখানে বগটুই ও রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বলতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘুরে যায়। ওয়েলে নেমে হট্টগোল, বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। এরপরই পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিষয়টি থামাতে গেলে শুরু হয় হাতাহাতি। বিজেপি বিধায়ক নরহরি মাহাতো ধস্তাধস্তির মধ্যে মাটিতে পড়ে যান। আরেক পদ্ম-বিধায়ক মনোজ টিগ্গার সঙ্গেও ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। এরপর হাতাহাতি, জামার কলার ধরে টানাটানি, রক্তপাত বাদ যায়নি কিছুই। এই ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাঁচ বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়। যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: Bagtui Massacre: ভিখারি পাসোয়ান থেকে রিজানুর, কী করেছে সিবিআই? বগটুইতদন্ত নিয়েও সংশয় কল্যাণের মনে
আরও পড়ুন: Bagtui Massacre: তোলাবাজির ভাগ পেতেন অনুব্রত! বগটুই-কাণ্ডে বিস্ফোরক শেখলাল