
ঘাটাল: সাড়ে সাতশো বিবেচনাধীনের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের নামই বাদ। ঘাটালের তিনটি বুথের মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় তা নিয়ে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে এলাকায়। নাম বাদের তালিকায় মহিলাদের সংখ্যাটাই বেশি বলে জানা যাচ্ছে। মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মূলগ্রামে ১৯১ নম্বর বুথে ৯০০ ভোটারের মধ্যে বিচারাধীন ছিল ৩৫০ জন। বর্তমানে ২২৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ১৯২ নম্বর বুথে ৭৫০ জনের মধ্যে ১৫০ জন বিচারাধীন ছিল। বাদ ৬৪ জন। ১৯৩ নম্বর বুথে এক হাজার ভোটারের মধ্যে বিচারাধীন ছিল ২৫০ জন। নাম বাদ গিয়েছে ১৯৯ জনের। সব মিলিয়ে ৪৯১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। শতাংশের বিচারে মোট ভোটারের প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।
এ ঘটনায় স্বভাবতই ঘাটালের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এলাকার লোকজন বলছেন, হিয়ারিংয়ে তাঁদের থেকে যে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল তাঁরা সব তথ্যই দিয়েছেন। তারপরেও কেন নাম বাদ তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা। অন্য়দিকে কোনও কথাই বলতে চাইছেন না বিএলও-রা।
এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, “জন্মের শংসাপত্র, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, স্নাতকের শংসাপত্র দেওয়ার পরেও আমার নাম বাদ চলে গিয়েছে। এখন জানি না ট্রাইবুনালে কী হবে।” কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক বাসিন্দা বলছেন, “হিয়ারিংয়ের সময় ওরা বলল আপনার সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আমার নাম ডিলিট মেরে দিয়েছে। কমিশন একটা জাতিকে দেখে বাদ দিচ্ছে এটা পরিষ্কার আমরা বুঝে গিয়েছে।”
এলাকার তৃণমূল ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি বলছেন, “এসআইআর থেকে নাম যে বাদ দেবে সেটা নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ছিল। বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের স্বার্থে মহিলাদের অনেক ভোট আসে। এখন যে কোনও মূল্য মহিলাদের নাম বাদ দিলে ওরা ভাবছে কেল্লাফতে হবে। সে গুড়ি বালি। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের সঙ্গে আছে।” ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট বলছেন, “যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা সঠিক তথ্য দিয়ে নাম জমা দিলে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে।”