
ঘাটাল: অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) আধার বিভ্রাট। একজনের আধারে অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা, সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত মহিলা। অভিযোগ, ওই মহিলার আধার নম্বর ব্যবহার করে অন্য এক মহিলা সরকারি সহায়তার টাকা পাচ্ছেন। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দাবিদার। এরপরই সমস্যা সমাধানের আশায় তিনি পৌঁছন প্রশাসনের ঘরে। তবে, একদিন নয়, মাসের পর মাস পৌরসভা থেকে মহকুমা শাসকের দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঘাটালের বাসিন্দা ছায়া সনকার। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের। ছায়া সনকার অভিযোগ, বারবার পৌরসভায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর আধার নম্বরের সঙ্গে অন্য এক উপভোক্তার অন্নপূর্ণা যোজনার তথ্য যুক্ত রয়েছে। সেই কারণেই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁর নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
কয়েক মাস আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন ছায়াদেবী। অভাবের সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পেলে সংসার চালাতে কিছুটা সুবিধা হতো বলে জানিয়েছেন তিনি। ছায়াদেবী বলেন, “আমার আধারের কার্ডের নম্বর অন্য কেউ ব্যবহার করে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাচ্ছে। আমি পাচ্ছি না। আমায় বলা হচ্ছে আধার নম্বর অন্য কারও কাছে চলে গেছে।”
পৌরসভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাসপুর-২ ব্লকের কোলাগেছিয়া গ্রামের গৃহবধূ তুতুন পাল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন ছায়া সনকার আধার নম্বর ব্যবহার করে। বিষয়টি নিয়ে তুতুন পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কীভাবে আধার নম্বরের এই বিভ্রাট ঘটেছে, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি জানার পর আধার নম্বর সংশোধনের আবেদন জানিয়ে দাসপুর-২ ব্লকের বিডিও দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “আপনাদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম। উপযুক্ত উপভোক্তারা কেউ বাদ যাবে না। সকলেই পাবেন অন্নপূর্ণার টাকা। আমরা খতিয়ে দেখে সমাধানের চেষ্টা করব।”