Medinipur newborn death: ‘মৃত’ নবজাতক, প্রসূতির ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে লেখা ‘শিশু জীবিত’, DNA পরীক্ষার দাবি পরিবারের
Medinipur Newborn Death Mystery: ২৫ তারিখ পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় তাদের বাচ্চা মারা গিয়েছে। মৃত শিশুকে শনাক্ত করার জন্য ন্যূনতম সময়ও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে যখন পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রসূতির ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় সেই সার্টিফিকেটে লেখা, বাচ্চা সুস্থ ও সবল রয়েছে।

মেদিনীপুর: চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারকে জানান চিকিৎসকরা। কিন্তু, হাসপাতাল থেকে প্রসূতিকে ছাড়ার সার্টিফিকেট দেখেই চক্ষু চড়ক পরিবারের। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, নবজাতক জীবিত রয়েছে। সেই ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেখেই ধন্দে পড়ে পরিবার। তাদেরই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে কি না জানতে ডিএনএ টেস্টের দাবি জানিয়ে মেদিনীপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নবজাতকের পরিবার। এদিকে, ঘটনাটিকে ‘ক্ল্যারিক্যাল এরর’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে মেদিনীপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমাতে ভর্তি হন খড়্গপুরের বুলবুল চটি এলাকার বাসিন্দা স্যালুনি প্রসাদ। ওইদিন বিকেলে মাতৃমাতে সিজারিয়ান সেকশন হয় তাঁর। জন্ম দেন পুত্রসন্তানের। জন্মের পর থেকেই নবজাতকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় এনআইসিইউতে।
২৫ তারিখ পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় তাদের বাচ্চা মারা গিয়েছে। মৃত শিশুকে শনাক্ত করার জন্য ন্যূনতম সময়ও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে যখন পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রসূতির ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় সেই সার্টিফিকেটে লেখা, বাচ্চা সুস্থ ও সবল রয়েছে।
এরপরই ধন্দে পড়ে গোটা পরিবার। বাচ্চা মৃত হলে ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে এমন কথা লিখলেন কী করে একজন চিকিৎসক? প্রশ্ন তোলেন পরিবারের সদস্যরা। গোটা ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে পরিবার। মৃত বাচ্চাকে তারা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে না সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য হাসপাতালেই সংরক্ষণের দাবি জানায়। মঙ্গলবার দুপুরে মেদিনীপুর আদালতে পৌঁছে বাচ্চার ডিএনএ টেস্টের আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এর পিছনে শিশু পাচার চক্রের হাত নেই তো? প্রশ্ন পরিবারের সদস্যদের।
তবে পরিবার যাই দাবি করুক না কেন, এটা নেহাতই “ক্ল্যারিক্যাল এরর” বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সুপার ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন, “প্রসূতি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেই অবস্থায় প্রসব যন্ত্রণা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। নবজাতকের ওজন ১ কেজির মতো ছিল। শ্বাস নিতে পারছিল না। চিকিৎসকরা সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, বাঁচানো যায়নি। পরিবারকে সেকথা জানানো হয়। তবে প্রসূতিকে জানানো হয়নি।” তবে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
