
চন্দ্রকোনা: আলুর দাম থাকলে এই ঘটনা হতো না। রাজনৈতিক দলের নেতারা আসছেন, আর্থিক সাহায্য করে যাচ্ছেন। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের কথা বলেছেন শুনেছি, তবে আমরা চাই উনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। এমনই দাবি করছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রাঙামাটি গ্রামের মৃত আলু চাষির স্ত্রী ও মা। স্ত্রী বললেন, “ওনার কথা আমি শুনেছি। আমরা চাই আমাদের পরিবারের দায়িত্ব নিক। আমার ছেলের পড়াশোনা, লেখাপড়ার দায়িত্ব যেন সরকার নেয়।”
আলুর দাম নেই, এদিকে ভাগে চাষ করেছিল রাঙামাটি গ্রামের রাখাল আড়ি। কীভাবে খরচ উঠবে তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না রাজ্যের হাজার হাজার আলু চাষির মতো। তা নিয়ে পারিবারিক বিবাদ, তারপরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন রাখাল। বর্তমানে রাখালের পরিবারে দুই সন্তান, স্ত্রী ও মা রয়েছে। কিন্তু এবার সংসারের ঘানি টানবে কে? কোন পথে হবে উপার্জন তা বুঝতেই পারছেন না স্বজনহারারা।
রাখালের মৃত্যুর পরেই তাঁর বাড়িতে ছুটে গিয়েছে বাম প্রতিনিধি দল। গিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বও। এসেছে আর্থিক সাহায্যও। কিন্তু বাজারে মন্দার জেরে রাজ্যজুড়ে আলু চাষিদের অবস্থা যখন দিনের পর দিন খারাপ হয়েছে তখন কেন কোনও পদক্ষেপ করা হল না সেই প্রশ্ন উঠছে। এরইমধ্যেই ভোটমুখী বাংলায় শনিবার ব্রিগেডে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরাট সেই জনসভায় রাখালের নাম উঠে এল মোদীর মুখে। মৃত চাষির স্ত্রী রিক্তা আড়ি ও মা অর্চনা আড়ি আক্ষেপের সুরেই বলছেন আলুর দাম থাকলে তাঁদের এই দিন দেখতে হতো না। মারা যেত না রাখাল। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতের কথা ভেবে পাশে দাঁড়াক সরকার।
প্রসঙ্গত, মোদীর সভার দিনই আলু চাষিদের জন্য এসেছে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর। আলু চাষিদের অভিযোগ ৫০ কেজির বস্তা পিছু যেখানে আলুর দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাতে খরচের টাকা ওঠা তো দূর, বিশালর ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এরইমধ্যে আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা করে দিয়েছে খবর।
যদিও এরইমধ্যে এসেছে আরও এক মৃত্যুর খবর। একদিন আগেই বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আলু চাষির দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানের ছড়াল গলসীর রামনগরে। পরিজনদের অভিযোগ,ঋণ নিয়ে চাষ করার পর আলুর দাম না পাওয়ায় বড় ক্ষতির আশঙ্কায় আত্মঘাতী হয়েছেন বুলবুল মণ্ডল নামে ওই কৃষক।