
পশ্চিম মেদিনীপুর: যাঁর হাত ধরে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ছাত্র রাজনীতিতে উত্থান হয়েছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, সেই প্রবীণ তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষই এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। টেলিভিশনের পর্দায় শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে দেখে আর ধরে রাখতে পারলেন না আবেগ। কেঁদে ফেললেন একেবারে হাউহাউ করে। তিনি মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ।
আটের দশকে কাঁথি কলেজের ছাত্র পরিষদের ইউনিট দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পথচলা। তারপর কাঁথি কলেজের নির্বাচিত প্রতিনিধি । স্মৃতির পথে হাঁটতে হাঁটতে সেই কথা বারবার শোনা গেল নির্মল ঘোষের মুখে। সেই সময় তিনি ছিলেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি। কাঁথিতে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলেই সেই সময় থাকতেন শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতেই। একপথে রাজনীতি করতে করতেই দু’জনের মধ্যে পরিচয় আরও জমে ওঠে। শুরু হয় পথচলা। এখন শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই তাঁর বর্তমান দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দাগলেন।
তাঁর অভিযোগ, দলটাকে শেষ করল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আজ দলের এই ভরাডুবি। তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের কোনও সম্মান নেই। কথা বলতে গেলেও পুলিশ দিয়ে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নির্মল ঘোষের দাবি, দলের ভিতর গণতন্ত্র শেষ হয়ে গিয়েছে, আর সেই কারণেই একের পর এক নেতা-কর্মী দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।