
কেতুগ্রাম: লোকমুখে খুবই জাগ্রত মন্দির। প্রতিদিন প্রচুর ভক্তের ভিড় হয়। মন্দিরে রয়েছে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা। সেই মন্দিরেই এরকমটা ঘটতে পারে, কেউ কখনও ভাবতেও পারেননি। সকালে উঠে এলাকাবাসীরা যখন জানতে পারেন, তখনও তাঁদের মুখে একটাই কথা, জাগ্রত মন্দির, অন্ততপক্ষে তো মানুষের ‘ধর্মকম্মে’র ভয় রয়েছে। তারপরও কীভাবে! আটোসাঁটো নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ফের চুরি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সতীপীঠের মূল মন্দির লাগোয়া একটি কালী মন্দিরের। প্রত্যেক দিন সন্ধ্যায় নিত্য পুজো হওয়ার পরও পুরোহিত সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। রাতে মন্দিরের মূল গেটে তালা দিয়ে চলে যায়। বাইরে পাহারারত থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অভিযোগ, তালা ভেঙে দেবীর সোনা ও রুপোর অলঙ্কার লুঠ করে নিয়ে যায়।
কেবল তাই নয়, মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে থাকা প্রণীমী বাক্সও ভেঙে টাকাপয়সা লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা। মন্দিরে রয়েছে পুলিশ ক্যাম্প, রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি,তবুও চুরি কীভাবে হল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কেতুগ্রাম থানায় দ্বারস্থ মন্দির কমিটি।
বুধবার সকালে মন্দির খোলার সময় বিষয়টি চোখে পড়ে সেবাইতের। মন্দির থেকে কিছুটা দূরেই জঙ্গলের মধ্যে উদ্ধার হয় ভাঙা প্রণামী বাক্স। দেখা যায় মন্দিরে থাকা CCTV ক্যামেরায় কাদা দেওয়া রয়েছে। ঘটনার তদন্তে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের এখানকার খুবই জাগ্রত মায়ের মন্দির। কত দূরদূরান্ত থেকে এখানে লোকে পুজো দিতে আসে। সারাক্ষণই ভক্তদের ভিড় থাকে। এই মন্দিরে নিরাপত্তারক্ষীরাও থাকেন সর্বক্ষণ। কীভাবে এসবের পরও এমন হল! আমি বলি, চোরেদের কি ধর্মের ভয় নাই?”