
কালনা: বর্গী হানার আতঙ্ক! প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লুকিয়েছিলেন বাড়ির মহিলারা, জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন পুরুষেরা। অথচ সেই তাণ্ডবের মধ্যেও অক্ষত ছিলেন দেবী দুর্গা! শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, কালনার নিরি পল্লির চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমনই রোমাঞ্চকর কাহিনি।
জনশ্রুতি রয়েছে , ইংরেজির ১৬১০ সালে পূর্বপুরুষ মাখন চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন। পরবর্তীকালে ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সালের মধ্যে বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় এই পরিবারেও হানা দেয় দস্যুরা। প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির মহিলারা আশ্রয় নেন পাশের পুকুরে। পুরুষেরা লুকিয়ে পড়েন জঙ্গলে। পরিবারের লোকজনের কথায়, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও দেবীর কোনও ক্ষতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় পুজোও।
শুধু বর্গী আক্রমণের কাহিনিই নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সতীদাহ প্রথা রদের স্মৃতিও। শোনা যায়, সতীদাহ প্রথা রদ হওয়ায় পরিবারের দুই মহিলা মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পান। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আনন্দে আরও জাঁকজমক করে পুজো শুরু হয় বলে প্রচলিত রয়েছে পারিবারিক কাহিনি।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে পুজোর দায়িত্ব। কিন্তু বদলায়নি প্রাচীন ঐতিহ্য। আজও কালিকাপুরাণের বিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয় পুজো। আর এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দশমীর বিশেষ রীতি। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে মহাদেবের উদ্দেশে চিঠি লেখেন পরিবারের সদস্যরা। প্রাচীন এই প্রথা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।
পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই পুজো আজ এলাকার মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে। পুজোর দিনগুলিতে ভিড় জমান দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা। ইতিহাস, বিশ্বাস আর প্রাচীন আচার—সব মিলিয়ে কালনার নিরি পল্লির চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো আজও বহন করে চলেছে কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্য। পরিবারের সদস্য কিঙ্কর দত্ত বলেন, “আমাদের মনে হয় মা এখানে বিরাজ করেন। ৪৫০ বছরের পুরনো পুজো এটা।”