
বর্ধমান: প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা। বর্ধমানে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা ঝুলল। রবিবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই পূর্ব বর্ধমান জেলায় দলের অন্দরে ক্ষোভের সুর চরমে উঠল। প্রার্থী বদলের দাবিতে সোমবার দুপুরে বর্ধমান শহরের বিসিরোডে অবস্থিত জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান একদল নেতা-কর্মী। বিক্ষোভের জেরে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, মেমারি-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা জেলা কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হন। বিক্ষোভকারীরা তালা ভেঙে অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল-সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেশ কিছুক্ষণ। বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা ফরিয়াত মল্লিক ও মনিরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, দলের প্রাক্তন নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দের প্রার্থী চাপিয়ে দিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, পূর্ব বর্ধমান জেলার ঘোষিত প্রার্থীদের তাঁরা মানবেন না। বিশেষ করে মন্তেস্বর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ তীব্র। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে জ্যোর্তিময় মণ্ডলকে প্রার্থী করা হয়েছে, অথচ তাঁর স্ত্রী এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যা। এই অবস্থায় তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রার্থী বদল করতে হবে। প্রয়োজনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর মজুমদার নিজে মন্তেস্বর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হোন, তবুও বর্তমান প্রার্থীকে তাঁরা মানবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কংগ্রেস নেতা মনিরুল ইসলাম খান বলেন, “যাঁদের পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের একজনকেও মানছি না। মন্তেশ্বর বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে জ্যোর্তিময় মণ্ডলকে। তাঁর স্ত্রী এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের সদস্য। সমস্ত প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লক্ষ, ৪ লক্ষ টাকা খেয়ে তাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে।”