
বর্ধমান: বিশেষভাবে সক্ষম শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ। গ্রেফতার হল বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি। লিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সোনালাল মাণ্ডি। বাড়ি মেমারি থানার মণ্ডলগ্রামে।
মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মের পর থেকেই সূর্য মাণ্ডি দৃষ্টিহীন ছিল এবং তার হাত-পা স্বাভাবিকভাবে নাড়াচাড়া করতে পারত না। শিশুটি বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছিল পরিবারের।
জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই সূর্যের মা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর কিছুদিন দিদিমার কাছে থাকলেও দিদিমার মৃত্যুর পর শিশুটির দায়িত্ব পড়ে ঠাকুমার ওপর। পুলিশের দাবি, এরপর থেকেই শিশুটিকে বোঝা মনে করতে শুরু করে বাবা সোনালাল মাণ্ডি। প্রথমে ছেলেকে অনাথ আশ্রমে দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে পুলিশ।
অভিযোগ, তা সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত খুনের পরিকল্পনা করে সে। গত বুধবার সোনালাল তার ছেলেকে মেমারির বড়পলাশন এলাকার কলাদিঘীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানেই শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জলাশয়ের ধারে শিশুর দেহ পড়ে থাকতে দেখে মেমারী থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ সোনালাল মাণ্ডিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি খুনের কথা স্বীকার করে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।