
কেতুগ্রাম: সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরনো শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। এবার পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সব নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ১৯০৪ সালের নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁর পরিবারের সবার নাম বাদ গিয়েছে। ঘটনায় কমিশন ও বিজেপিকে নিশান করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কেতুগ্রামের ১২টি বুথ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৫০০-র বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যে একটি বুথে ৪৪৪ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। তার মধ্যে ৪৪০ জনের নাম বাদ পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কেতুগ্রামের আনখোনা গ্রামের ১৩ নম্বর বুথে বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৪২৬ জনের নাম। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছেন ৩৯৭ জন। আবার কোনও বুথে বাদ গিয়েছে ১১৬ জনের নাম।
শয়ে শয়ে ভোটারের নাম বাদ পড়ায় এদিন বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। মোজাম্মেল শেখ নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমার ঠাকুরদার জন্ম ১৯০৪ সালে। তিনি জাহাজে চাকরি করতেন। আমি ১৯০৪ সালের নথি জমা দিয়েছিলাম। তারপরও আমার পরিবারের সবার নাম বাদ পড়েছে। এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে?” আলো শেখ নামে আর এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমার নাম রয়েছে। বাবা ও ভায়ের নাম বাদ। বাবার নাম যদি বাদ দেয়, আমি এখানে এলাম কোথা থেকে? ধরে ধরে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দিচ্ছে।”
নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের আনখোনা অঞ্চল সভাপতি মীর রওশন আলি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃত ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, তার জন্য লড়ছেন। যাদের নাম বাদ গিয়েছে, সেই তালিকা আমরা রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠাব। তৃণমূল তাদের হয়ে লড়বে।” বিজেপির ষড়যন্ত্রে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।