Purba Bardhaman: স্পঞ্জ আয়রন কারখানার ফার্নেসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ঝলসে গেলেন ৩ শ্রমিক
Burdwan Sponge Iron Factory Explosion: গত বছরের ৯ জুন এই কারখানায় প্রায় একই ধরনের বিস্ফোরণে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর কারখানার নাম পরিবর্তন করা হয়। তারও তিন বছর আগে একই কারখানায় ফার্নেস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সে সময় কোনও প্রাণহানি হয়নি।

পূর্ব বর্ধমান: কাজ করছিলেন। আচমকা স্পঞ্জ আয়রন কারখানার ফার্নেসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। গলিত লোহায় ঝলসে জখম হলেন ৩ শ্রমিক। পূর্ব বর্ধমানের পালিতপুর শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় শনিবার সন্ধেয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে পঙ্কজ যাদব ও উমেশ যাদব নামে দুই শ্রমিককে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো শনিবারও কারখানায় কাজ চলছিল। কারখানাটিতে পাঁচটি ফার্নেস রয়েছে। তার মধ্যে একটি ফার্নেস চালু করার জন্য লোহার ছাঁট (স্ক্র্যাপ) দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। শ্রমিকদের দাবি, অতিরিক্ত তাপমাত্রার জেরে ফার্নেসটি ফেটে যায়। গলিত লোহা ছিটকে পড়ে কয়েকজন শ্রমিক ঝলসে যান এবং বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁরা ছিটকে পড়ে আহত হন।
খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর শ্রমিকদের একাংশ কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারখানার শ্রমিক উজ্জ্বল গড়াইয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফার্নেসগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী চুল্লিগুলি পর্যায়ক্রমে চালু করার কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয় না বলেই দাবি তাঁদের। তাঁদের আরও আশঙ্কা, ফার্নেসে যদি আরও বেশি পরিমাণ স্ক্র্যাপ ভর্তি থাকত, তাহলে দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। যদিও কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার কমলেশ সিং দাবি করেন, “রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গন্ডগোল নেই। আমাদের কারখানার নিরাপত্তা দেখভাল করা হয়।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ জুন এই কারখানায় প্রায় একই ধরনের বিস্ফোরণে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর কারখানার নাম পরিবর্তন করা হয়। তারও তিন বছর আগে একই কারখানায় ফার্নেস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সে সময় কোনও প্রাণহানি হয়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপি নেতারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাসের দাবি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিট বন্ধ রাখা উচিত। নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরপর একই ধরনের দুর্ঘটনায় ফের শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
