
কণিষ্ক মাইতি ও সৌরভ গুহর রিপোর্ট
কাঁথি: শুভেন্দু গড়ে দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগে সাপ তাড়ান তারপর ঝগড়া করবেন, কাঁথির কর্মিসভায় সাফ কথা দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের। ভোটের মুখে তাহলে কী গোষ্ঠীকোন্দলই সবথেকে বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের, সেনাপতির বার্তার পর সেই প্রশ্নই ঘুরতে শুরু করেছে নতুন করে। সূত্রের খবর, বৈঠক শুরুর আগে অভিষেক সুপ্রকাশ গিরি, তরুণ জানা, পীযূষ কান্তি পণ্ডাকে আলাদা করে ডেকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে কথা বললেন। প্রথমে সুপ্রকাশ গিরিকে ডাকলেন, তারপর একে একে বাকিদের।
সূত্রের খবর, এই কর্মিসভাতেও ফের একবার বিজেপির ব্যর্থতা নিয়ে প্রচারে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন অভিষেক। পাশাপাশি রাজ্য সরকার কীভাবে গোটা রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার এনেছে তাও তুলে আনতে হবে প্রচারে। তবে বারবারই উঠে এসেছে কোন্দল কাঁটার প্রসঙ্গ। দিকে দিকে টিকিট না পেয়ে ‘লোকাল’ বিধায়কদের বিক্ষোভের মাঝেই অভিষেকের সাফ কথা, দল যাকে প্রার্থী করেছে আমার ভালো লাগুক না লাগুক তাকে জেতানো আমাদের দায়িত্ব। মান-অভিমানের কোনও জায়গা নেই। পূর্ব মেদিনীপুরে আমাদেরই হয়ত দুর্বলতা রয়েছে তাই লোকসভায় ফল ভালো হয়নি। এরপরই অভিষেকের সংযোজন, “
দল তো কারোও একার উপর চলে না। দেখুন কোন ওয়ার্ডে বা বুথে বা পঞ্চায়েতে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। সেগুলি বিশ্লেষণ আমাদেরই করত হবে। আগামী ২০-২৫ দিন আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে হবে।
এদিন ফের একবার অভিষেকের মুখে শোনা যায় সেই চেনা পারফরম্যান্সের কথা। দলের সেনাপতির সাফ কথা, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই পুরস্কার। কাজ করলে পুরস্কৃত না করলে তিরস্কৃত। যুদ্ধে যারা বেইমানি করে, তারা আর যাই করুর দলকে নিজের মা বলতে পারে না। আগে সাপ তাড়ান তারপর ঝগড়া করবেন। বিজেপি বারান্দায় কেউটে সাপ ছেড়ে দিয়েছে। আগে সেটাকে তাড়ান।
কাজ না করলে যে দল ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত তাও এদিন ভালো করে আর একবার বুঝিয়ে দেন অভিষেক। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে ফের একবার বলেন, “তৃণমূলের পদে থাকার এখন একটাই মাপকাঠি পারফরমেন্স। আপনি যদি ভালো পারফর্ম করেন দল আপনাকে পুরস্কৃত করবে। যে অঞ্চল সভাপতি কাজ করবে না তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অঞ্চল সভাপতি না, এবার প্রধান উপপ্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে।” অন্যদিকে ভোটের ফাইনাল রেজাল্ট বের হওয়া না পর্যন্ত যাতে কেউ মাঠ না ছাড়েন তাও একবার ভালো করে বুঝিয়ে দেন অভিষেক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে এই জেলা যেন অগ্রণী ভূমিকা রাখে তাও বলেন। বিহারের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, বিহারে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এরা রিগিং করিয়েছে। এখানেও এটাই করার চেষ্টা করবে। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগে কেউ যেন বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন না। আগামী দিনে তৃণমূলের পক্ষে এখানে যেন ৮-০ হয়।”