
জেলায় ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শপথ অনুষ্ঠানে শেষ করে কোলাঘাট এলেন রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। তারপর প্রায় কাঁথি পর্যন্ত ৯৫ কিমি রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় অগণিত মানুষ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। শেষে রাত দু’টো নাগাদ নিজের শহর কাঁথিতে প্রবেশ করেন শুভেন্দু।
শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে তিনি পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীতে বাড়িতে আসার পর এদিন সকালে শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ঢল নামে। শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় সামাল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুভেন্দুর জন্য এদিন মা ও মাসি মিলে একাধিক পদের আয়োজন করেন। জানা গিয়েছে, এদিন মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রীর পাতে ছিল মোচার তরকারি, সর্ষে ইলিশ, পোনা কালিয়া, করলা সেদ্ধ, মুরগির মাংস।
রাজ্যে পালাবদলের আবহে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসমকালে বাম শাসন হটাতে নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নিজেই রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। অধীরের খোঁচা, “রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে তৃণমূল নেত্রীকে।”
হুগলির তারকেশ্বর থানার ওসির ওপর হামলার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আহত ওসি সুব্রত সাধু বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আজই কাজে যোগ দেবেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের জয় এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এক অভিনব দৃশ্য হেমনগরের কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি এলাকায়। এ যেন মানত পূরণ! দীর্ঘ দেড় দশকের ‘মানত’ পূরণ করতে এবং তৃণমূলের পরাজয়ে উল্লাস প্রকাশ করে মাথা মুণ্ডন করলেন এলাকার একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক। জয়ের উল্লাসে সর্বত্র চলছে ঝালমুড়ি খাওয়া, লাড্ডু বিলি, মুখমিষ্টি, কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই বিজেপি কর্মী সমর্থকরা যে লড়াই চালিয়েছেন, তা সার্থক হওয়ায় মাথা ন্যাড়া হচ্ছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় ক্লু পুলিশের হাতে। সূত্রের খবর, খুনে ব্যবহৃত গাড়ি এসেছিল ঝাড়খণ্ড থেকে। ফাস্ট ট্র্যাক নয়, নগদও নয়, UPI এর মাধ্যমে বালি টোল প্লাজায় টাকা পেমেন্ট করেছিল দুষ্কৃতীরা। ঝাড়খণ্ডের গাড়ি বাংলার নম্বর প্লেট লাগিয়ে খুনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। বালি টোল প্লাজা পেরিয়ে মধ্যমগ্রাম গিয়েছিল গাড়িটি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই UPI পেমেন্ট কে করেছিলেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কী? এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা এগোচ্ছেন।
বামেদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
তারপরই বিস্ফোরক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয়ো চন্দ। দলনেত্রী আইপ্যাকের স্ক্রিপ্ট পড়েছেন বলে মন্তব্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদকের।
তাঁর বক্তব্য, বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলা যেমন তাঁদের কাছে অসম্মানের ঠিক তেমনই তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের কাছে অসম্মানের।
দল ক্ষমতা থেকে সরতেই বিরূপ মন্তব্য শুরু করেছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। বিশেষ করে যুব নেতারা বারেবারে এই পরাজয়ের জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ
সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) দায়ী করেছেন। তার জন্য পাঁচ নেতাকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে দল।
তবে, সত্যিই কি এই বিপুল হারের দায় অভিষেকেরই? কী বলছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (sovandeb chattopadhyay)?
এদিনই আবার নিহত আপ্ত সহায়াক চন্দ্রনাথের বাড়িতে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে শহিদ বেদিতে মাল্যদানের কর্মসূচিও রয়েছে। নন্দীগ্রামে করতে পারেন বৈঠক। দলীয় কর্মীদের নিয়েই সেখানে বৈঠক হতে পারে বলে খবর। বৈঠক থেকে কী বার্তা দেন সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
শনিবার রাতে ফেরার পথে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের পাড়া প্রবেশের পথেও তখন হাজারও মানুষের ভিড়। ভিড় ঠেলেই এগিয়ে চলল সাদা টয়োটা ফরচুনার গাড়ি। যার সামনের বামদিকের আসনে বসে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে নেমে সকলের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, অভ্যর্থনাও গ্রহণ করেন। বাড়িতেও তখন চলছে শুভেন্দুর জন্য অপেক্ষা। অপেক্ষায় গোটা পরিবার। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতেই বরণ ডালা নিয়ে চলল বরণ।