Digha Annapurna Plaza Hotel: পূর্ব মেদিনীপুরেও ‘পুষ্পা’র থাবা! এত বড় কাণ্ড দিঘাতে
Digha Annapurna Plaza Hotel: ২০২১ সালের লকডাউনের সময়ে। হোটেল মালিক সুবীর দাসের অভিযোগ, তিনি 'ব্যাংক অফ বরোদা' ভবানীপুর শাখা থেকে লোন নিয়ে হোটেলটি চালাচ্ছিলেন। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগাম কোনও নোটিস না দিয়ে বা হোটেলটি সিল না করেই অত্যন্ত কম মূল্যে তা বিক্রি করে দেয়।

পূর্ব মেদিনীপুর: ফলতার পুস্পার প্রভাব দিঘাতেও ! তৃণমূল জমানায় বেদখল হওয়া দিঘার হোটেল ফেরত পেলেন প্রশাসনে সহযোগিতায় আদি মালিকই। ফলতার জাহাঙ্গির প্রভাব ভোটের আগে পর্যন্ত ছিল দিঘাতেও। দিঘায় তৃণমূল জমানায় বেদখল হয়ে যাওয়া হোটেল ‘অন্নপূর্ণা প্লাজা’ নামে ফিরে পেলেন তার আদি মালিক সুবীর দাস। দীর্ঘ আইনি যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এদিন হোটেলের তালা খুলে পুনরায় তার দখল নেন সুবীর। নতুন করে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত, ২০২১ সালের লকডাউনের সময়ে। হোটেল মালিক সুবীর দাসের অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ভবানীপুর শাখা থেকে লোন নিয়ে হোটেলটি চালাচ্ছিলেন। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগাম কোনও নোটিস না দিয়ে বা হোটেলটি সিল না করেই অত্যন্ত কম মূল্যে তা বিক্রি করে দেয়। হোটেলটি কিনে নেন ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ ‘মেহবুব খান ‘নামে এক ব্যক্তি।
সুবীরের দাবি, হোটেলটি প্রথম থেকেই তাঁর দখলেই ছিল। ব্যাঙ্ক সমস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই কাজ করেছিল। হোটেল হাতছাড়া হওয়ার পর পিছিয়ে যাননি সুবীর দাস। তিনি তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হন।মাঝে ফলতা থেকে বেশ কিছু সমাজবিরোধী এসে হোটেলে ঝামেলা করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে স্থানীয় থানা ও প্রশাসন হোটেলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি দীর্ঘদিন আদালত বিচারাধীন ছিল।
সাম্প্রতিক, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপরই রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রশাসনের অন্দরে বড়সড় রদবদল ঘটে। গ্রেফতার হন ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান।
রাজনৈতিক এই পরিবর্তনের পরই গতি পায় আইনি প্রক্রিয়া। আপাতত প্রশাসন ওই বিতর্কিত হোটেলের চাবি পুরনো মালিক সুবীর দাসের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সুবীর বলেন, ”হোটেলটি প্রথম থেকেই আমাদের ছিল। বহির্ভূতভাবে এটি অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছিল। আজ প্রশাসনের সহযোগিতায় তালা খুলে পুনরায় আমি দায়িত্ব নিলাম। আশা করছি দ্রুত আইনি জট কেটে যাবে এবং নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারব।”
