
নন্দীগ্রাম: এবার মুখ খুলল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মেয়ে অরুণিমা প্রধান। বছর পনেরোর অরুণিমা একটি ভিডিয়ো বার্তায় বাবার জন্য আওয়াজ তুলেছেন। বলল, “আজকে আমার বাবা জেলে। আমার বাবাকে ভুল কেস দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমার দাদু ছিলেন, আমার বাবা ছিলেন। আরও অনেকে ছিলেন।” তার প্রশ্ন, “যখন অনেকেই ছিল, তাহলে শুধু কেন আমার বাবাই? কেউ এমনিই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ লক আপে? এটা কোন ধরনের বিচার। আমি একজন জেন জি। আমি দেখেছি যন্তর মন্তরে কীভাবে প্রতিবাদ হয়েছে। আমি এখন বুঝতে পারি কীসের জন্য এই প্রতিবাদ! আমি এখন একটা বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি।”
নন্দীগ্রামবাসীর কাছে অরুণিমার আবেদন, “এই ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আপনারা আমার বাবাকে সাপোর্ট করুন। এই প্রথমবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র লড়াইয়ে নেমেছেন। বাকিরা যাঁরা রয়েছেন, নন্দীগ্রামের নাম ভাঙিয়ে নেতা হয়েছেন। তিনি হয়তো আন্দোলনে ছিলেন, আর আমার বাবা-দাদুরা নেতৃত্বে ছিলেন। আজ তাঁরা জেলে। আমার বাবা সৎ ও অহিংসার লড়াই লড়ছে, সাপোর্ট করুন।”
গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনপর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। প্রথমে পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিলন প্রধানকে। তিনি এখন জেলে। অভিযোগ, তারপরও একাধিক মামলা নতুন করে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তাহলে কি নির্বাচনে জেলেই থাকবেন কংগ্রেস প্রার্থী? যদিও কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যাবে না। বৃহস্পতিবারের শুনানি হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্করের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, তিনি তাঁর অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করছেন। রাজ্যকে পরামর্শ, ‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন।’ এই মামলার শুনানি রয়েছে শুক্রবার বিকালে। এদিকে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচন কমিশন দলদাসে পরিণত হয়েছে। এটাই তার প্রমাণ।”