HC On Nandigram Cong Candidate: ‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন’, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য হাইকোর্টের
Milan Pradhan Interim Bail: বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, "মিলন প্রধানকে নির্বাচনের লড়তে দিন। আমি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি।" বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, "নির্বাচনে অংশ নিক, বাকিটা মামলার ভাগ্যের ওপর নির্ভর করবে।" এদিন প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানান বিচারপতি। শুক্রবার বিকাল চারটেয় ফের জামিন মামলার শুনানি।

কলকাতা: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জামিন মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, “মিলন প্রধানকে নির্বাচনের লড়তে দিন। আমি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি।” বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, “নির্বাচনে অংশ নিক, বাকিটা মামলার ভাগ্যের ওপর নির্ভর করবে।” এদিন প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানান বিচারপতি। শুক্রবার বিকাল চারটেয় ফের জামিন মামলার শুনানি।
মিলন প্রধানের স্ত্রী বলেন, “আমি একজন সাধারণ ঘরের বউ। রাজনীতির ব্যাপার কী, আমি সে সব কিছুই ওতো বুঝি না। কিন্তু আমি হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের, সব আইনজীবী-উকিলকে ধন্যবাদ জানাব। কলেজ জীবন থেকে উনি কংগ্রেস করেন। কংগ্রেসকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন। টাকার লোভে অন্যদের মতো অন্য দলে চলে যাননি। ২০০৭ সালে কবে কোন ঘটনায় ওনাকে জড়ানো হয়েছে। ”
প্রদেশ কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির মেম্বার প্রকাশ যোশী বলেন, “কীভাবে মিলন প্রধানকে হেনস্থা করা হচ্ছে। ২০০৭ সালের ঘটনা, সেখানে মিলন প্রধান কেবল একা নয়, হাজার লোকের ওপর কেস চলছিল। একবার সরকার ঘোষণা করেছিল, কেস প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। কিন্তু তারপরও সেই কেস রিওপেন করে মিলন প্রধানকে এই কারণে ফাঁসানো হল, যেহেতু উনি কংগ্রেসের প্রার্থী।”
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে বাকি পাঁচ মামলায় কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য। ফলে ওই পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচেরও প্রয়োজন নেই। এদিনের জামিন মামলা প্রসঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী ঋতেশ পাণ্ডে বলেন, ” আমাদের বক্তব্য ছিল, ৫ টা যে মামলা, যার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা বাদে আর যেন কোনও মামলাতেই তাঁকে হেনস্থা না করা হয়। কালকে জানতে পারি, খেজুরি থানার একটি মামলায় নতুন করে আরও একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। আজ সকাল সাড়ে দশটায় এই মামলার শুনানি ছিল।” তিনি বলেন, “বিচারপতি রাজ্যকে স্পষ্ট করে দেয়, নতুন করে মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতারি দেখানো যাবে না। রাজ্যের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল, এই মামলায় আগে থেকেই নাকি ওনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর জানতে পারি, রাজ্য ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার মামলায়, যেটায় আসলে গ্রেফতার হয়েছেন, তাতে আমরা চারটে বেল পিটিশন করেছিলাম। বিচারপতির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করছেন।”
বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “গণতন্ত্রের শর্ত মেনে আইন মেনে নির্বাচনে লড়ার অধিকার সবার আছে। এটা একটা পুরনো বাম আমলের মামলা। তিনি এতদিন ধরে জামিন নিলেন না কেন? ১৫ বছর ধরে জেনেশুনেও জামিন নেননি কেন?”
মামলার প্রেক্ষাপট গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনপর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয় বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
