
পূর্ব মেদিনীপুর: অবজারভারের লিয়াজো অফিসারের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ। কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের। মহিষাদল বিধানসভায় মহিষাদল ব্লকের এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের দারস্থ হয়েছে বিজেপি। মহিষাদল ব্লকের ওই সরকারি আধিকারিকের নাম সুজন দাস। তিনি মহিষাদল ব্লকের সিডিপিও কর্মী।
বিজেপির অভিযোগ, সম্প্রতি ওই সরকারি আধিকারিক একটি সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তৃণমূল প্রার্থী তিলক কুমার চক্রবর্তী সভাতে উপস্থিত থাকার বার্তা পাঠান। এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির আরও অভিযোগ, সরকারি গ্রুপে এভাবে একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে রাজনৈতিক দলের প্রচার করতে পারেন?
ইতিমধ্যেই মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার কমিটির সদস্য রঘুনাথ পণ্ডা লিখিতভাবে মহিষাদল বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মহিষাদল বিধানসভার অবজারভারের লিয়াজো ও অফিসার সুজন দাস আইসিডিএস কর্মীদের তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী একটি সভাতে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেন। সেই সভাতে আইসিডিএস কর্মীদের উপস্থিতি নেওয়া হবে বলে মেসেজে উল্লেখ করেন।
এটা পুরোপুরি নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অবজারভারের গতিবিধি এবং কার্যকলাপ সমস্ত কিছু জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তীকে। আমাদের দাবি অবিলম্বে অবজারভারে লিয়াজো অফিসার সুজন দাসকে দরখাস্ত করতে হবে এবং সাসপেন্ড করতে হবে। সরকারি কর্মীরা তৃণমূলের দলদাস হয়ে গিয়েছে।”
এ নিয়ে মহিষাদলের তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী বলেন, “তিনি হয়তো আবেগে করে ফেলেছেন। কেন করেছেন তিনি বলতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। বিজেপি নেতার নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন চলছে।”
মহিষাদল ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সোনালি দাস বেরা বলেন, “আমাদের একটি গ্রুপে সিডিপিও সুজন দাস তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তীর সমর্থনে একটি মিটিংয়ে থাকার জন্য মেসেজ দিয়েছিলেন। পরে তিনি সেটা ডিলিট করে দিয়েছেন। কেন তিনি এরকম মেসেজ করলেন জানিনা।”
এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “রিটার্নিং অফিসারকে বলা হয়েছে। কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”