
নন্দীগ্রাম: প্রথম দফার নির্বাচনের রাত থেকেই তপ্ত হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম! বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলছিল। এখনও তার আঁচ রয়েছে। নির্বাচন মিটতেই ফের হিংসার অভিযোগ উঠল নন্দীগ্রামের ২ নম্বর ব্লকের বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালচক বাণী-বিতান বুথ এলাকায়। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক দাদার মাছ ধরার জালে আগুন লাগিয়ে দিলেন ভাই, যিনি এলাকায় তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত।
শঙ্কর খালুয়া পেশায় একজন মৎস্যজীবী। তিনি বিজেপি সমর্থক। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর ভাই সুদর্শন খালুয়া বিভিন্নভাবে তাঁদের হুমকি দিচ্ছিলেন। নির্বাচনের পরেও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে পেয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যতক্ষণে আগুন নেভে, প্রায় নব্বই শতাংশ জিনিসই পুড়ে যায়। পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় ৫ লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
শঙ্করের অভিযোগ, “সুদর্শন খালুয়া আগেও একাধিকবার হামলা করেছে। এর আগে ঘর ভাঙচুর এবং পুকুরে বিষ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। এবার পেটে লাথি মেরে দিল।”
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের দাবি, “এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিবাদ। রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” তৃণমূলের অভিযোগ, গেরুয়া শিবির ব্যক্তিগত বিবাদকে রাজনৈতিক রং দিয়ে নন্দীগ্রামে মিথ্যা প্রচার করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুদর্শন খালুয়া পলাতক। বাড়িতে কাউকে না পাওয়ায় তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে আক্রান্ত পরিবার।