
কাঁথি: শনিবার বাংলায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির কেউ অবশ্য মুখ্য খুলছেন না। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন। শুভেন্দুই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কি না, তা নিয়েও মুখ খুললেন। আবার বিজেপির আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি ৬ মাসে আগেই যে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাও জানিয়ে দিলেন।
শুভেন্দুই কি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন?
আর কয়েক ঘণ্টা পরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবে বিজেপি। রাজ্যজুড়ে এখন একটাই জল্পনা, কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী। টিভি৯ বাংলার এই প্রশ্ন শুনে শিশির অধিকারী বললেন, “বিজেপি সর্বভারতীয় দল। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা কেন্দ্রীয় স্তরে ঠিক হয়। তাই আমি কিছু বলব না। এটা স্থানীয় দল হলে আমি নাম বলে দিতে পারতাম।”
‘বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পাবে’
ছাব্বিশের নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়েছে বিজেপি। ফলতা আসনে নির্বাচন বাকি। অনেকের কাছে বিজেপির এই আসন সংখ্যা বিস্ময়ের হলেও শিশির অধিকারীর কাছে নয়। তিনি ৬ মাস আগেই এই নিয়ে বিজেপির সংগঠনের এক শীর্ষ পদাধিকারীকে জানিয়েছিলেন। টিভি৯ বাংলাকে শুভেন্দুর বাবা বলেন, “বিজেপির সংগঠনের এক পদাধিকারী মাস ছয়েক আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তাঁকে আমি বলেছিলাম, মানুষ প্রস্তুত। ২০০-র বেশি হবেই। কারণ, আমাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেকদিনের। আমরা তো একদিন রাজনীতি করছি না।”
কেন্দ্র-রাজ্য সুসম্পর্ক-
দীর্ঘদিন বাংলা ও কেন্দ্রের সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন দেখেছে বঙ্গবাসী। এর ফলে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন প্রাক্তন সাংসদ শিশির। তিনি বলেন, “কেন্দ্রে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজ্যে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের পর এই প্রথম কেন্দ্র ও রাজ্যের সুসম্পর্কের সরকার হচ্ছে। কেন্দ্র একদিকে যাবে আর রাজ্য একদিকে যাবে, এটা হতে পারে না। খুব হীন অবস্থায় বাংলা চলে গিয়েছিল।”
‘ঘর-পরিবার আছে বলে কখনও মনে করেনি’
২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। এই পাঁচ বছর রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত দৌড়ে বেড়িয়েছেন। তা নিয়ে শিশির বলেন, “গত ৫ বছরে শুভেন্দু খুবই পরিশ্রম করেছে। ঘর-পরিবার আছে বলে কখনও মনে করেনি। আমরাও শুধু খবরটা নিতাম, কোথায় আছে। আর আমাদের কোনও সুযোগও ছিল না। ভোর বেলা উঠে মালদহ, সেখান থেকে রাতে ফেরা। এটা কখনও কেউ কল্পনা করতে পারে না। আমি এককালে করেছি। সকালে পুরুলিয়া যেতাম, রাতে ফিরতাম।” ছেলের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে তিনি বলেন, “সংগঠন যে কী জিনিস, এটা প্রমাণ করে দিয়েছে শুভেন্দুর। কোন রাউন্ডে এগোবে, সব বলে দিয়েছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এদিনও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “মেদিনীপুরকে অবহেলা করেছেন উনি।” একইসঙ্গে নিজের বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে বছর চুরাশির শিশির জানিয়ে দিলেন, “অনেক কাজ বাকি আছে। পরিশ্রম বেড়ে যাবে।”