
শ্যামপুকুর (১৬৬ নম্বর) বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতার রাজনীতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলকাতার জন্মের সঙ্গে জড়িত শ্যামপুকুরের ইতিহাস। এই কেন্দ্রে জনজাতি এবং মুসলিম ভোটের পরিমাণ অনেকটাই কম। এর নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ অধিকাংশে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া। ফলত ভোটের হারও অনেকটাই কম। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬২.৬১ শতাংশ, ২০২১ সালে পড়েছিল ৫৮.৩৬ শতাশ। ২০১৯ সালের লোকসভা ৬৭.১১শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮.৩১ শতাংশ এবং ২০১১ সালে ৬৭.৬৭ শতাংশ।
শ্যামপুকুর উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন এলাকা। এটি কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা কেন্দ্র। কলকাতা পৌরসংস্থার ৭, ৮, ৯, ১০, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২৪ এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই কেন্দ্রটি গঠিত। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র এর অংশ এই বিধানসভা। ঐতিহাসিকভাবে শ্যামপুকুর উত্তর কলকাতার আভিজাত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল এই বিধানসভা। তারপর ফরওয়ার্ড ব্লক পাঁচবার এই আসনে জিতেছিল। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলই এই আসনে জিতে আসছে। ২০২১ সালে ডা: শশী পাঁজা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়েন এবং বিজেপির সন্দীপন বিশ্বাস-কে ২২,৫২০ ভোটে হারান। ২০১৬ সালেও ডা: শশী পাঁজাই জিতেছিলেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শ্যামপুকুর কেন্দ্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)র হয়ে লড়ছেন ডা: শশী পাঁজা (বর্তমান বিধায়ক)। বিজেপির (BJP) প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
শ্যামপুকুর বরাবরই একটি হাই-প্রোফাইল আসন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের নির্বাচনেও এখানকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং পুরোনো কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষা—উভয়ই ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।