Surjapur violence: সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় এবার ধৃত সিপিএম নেতা, কী বলছে বাম ও বিজেপি?
CPM Leader Lahek Ali Arrested: অভিযোগ, ঘটনার দিন বিক্ষোভের সময় লাহেক আলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। সোমবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার তদন্তে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বারুইপুর: বারুইপুরকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি হবে। তেমনই সূর্যপুরে অশান্তিতে জড়িত ও প্ররোচনা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরাও ছাড় পাবেন না। স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য গ্রেফতার করা হল সিপিএম নেতা তথা ছাব্বিশের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী লাহেক আলিকে। রবিবার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। লাহেক আলির গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএমের দাবি, ধর্ষণের প্রতিবাদ করাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের দলের নেতাকে। বিজেপির পাল্টা দাবি, এলাকায় হিংসা ছড়ানো ও গণপিটুনিতে উস্কানি দিয়েছেন ওই সিপিএম নেতা।
বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সূর্যপুরে এক যুবকের মৃত্যু হয় গণপিটুনিতে। সিপিএম নেতা লাহেক আলি, সুজন চক্রবর্তীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ দায়ের হয় বারুইপুর থানায়। ওই অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বারুইপুরে নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে জড়িতদের যেমন কঠোর শাস্তি হবে। তেমনই সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় জড়িত ও প্ররোচনা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।
লাহেক আলির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য, হিংসায় ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এদিন তাঁকে গ্রেফতার করে বারুইপুর জেলা পুলিশ। গ্রেফতারের পর নিয়ে যাওয়া হয়েছে নরেন্দ্রপুর থানায়। ধৃত সিপিএম নেতাকে আগামিকাল আদালতে তোলা হবে।সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় এর আগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ছাব্বিশের নির্বাচনে লাহেক আলি বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন। তবে হেরে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভের সময় রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার বিক্ষোভের সময় লাহেক আলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। আগামিকাল তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার তদন্তে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সিপিএম নেতার গ্রেফতারিতে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর-
সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় সিপিএম নেতার গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএমের বক্তব্য, ধর্ষণের প্রতিবাদ করাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বাম নেতাকে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছে লাহেক আলিকে। আবার সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, “পুলিশকে কাজে লাগিয়ে লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য সরকার। এর বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব। আদালতে গিয়েই জয় ছিনিয়ে আনব।”
অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, সূর্যপুরে অশান্তিতে উস্কানি দিয়েছেন ধৃত বাম নেতা। সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের বক্তব্য, হিংসায় উস্কানি দিলে গ্রেফতার করা হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। আবার রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “হিংসায় উস্কানি দেওয়ার ভিডিয়ো রয়েছে। এখন রাজ্যে আইনের শাসন চলছে। উস্কানি দিলে গ্রেফতার তো হবেই।”
