
ক্যানিং: সোফায় গা এলিয়ে বসে রয়েছেন একজন। সেই সোফাতেই বসে আরও একজন। দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে টাকার বান্ডিল দিলেন। প্রথমজন সেই টাকার বান্ডির জামার পকেটে পুরে নিলেন। ভাইরাল হয়েছে এই ভিডিয়ো। আর ভিডিয়োতে যাঁকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তিনি তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। অভিযোগ, জমি কেনায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলাবাজির টাকা নিয়েছেন তিনি। সেইসময়ই ভিডিয়োটি করা হয়। আর এই ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে যাঁকে দেখা গিয়েছে, তিনি ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত চন্দনেশ্বর দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আলাউদ্দিন মোল্লা। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছেন কলকাতার তপসিয়া এলাকার এক ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি কাশিয়াডাঙা এলাকায় ৫০ কাটা জমি কিনেছেন। সেই জমিতে কাজ শুরু করতে গেলে উপপ্রধান আলাউদ্দিন মোল্লা তাঁর অনুগামীদের নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন। অভিযোগ, সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ীর আরও অভিযোগ, ওই জমিতে কাজ চালু করতে গেলে তাঁর কাছে ৭ লক্ষ টাকা তোলাবাজি হিসেবে দাবি করেন উপপ্রধান। পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এমনকি, বন্দুক দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
টাকা নেওয়ার যে ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেই ভিডিয়ো তিনি করেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী। চন্দনেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে শাসকদলকে বিঁধেছে বিরোধীরা। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “শওকত মোল্লার রত্ন এই আলাউদ্দিন মোল্লা। এই টাকা একা খেতে পারবেন তিনি? আলাউদ্দিন সাহেব টাকা তুলতে পারেন, কিন্তু হজম করার মেশিন শওকতের কাছে।” অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, “তৃণমূল তোলাবাজদের দল। এদের কাছে ভাল কিছু আশা করা সম্ভব নয়। এই রাজ্যে কোনও শিল্পপতি, ব্যবসায়ী সুরক্ষিত নন। যাঁকে তোলা তুলতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার চামচা। তাঁদের ত্রিসীমানায় যাওয়ার ক্ষমতা নেই পুলিশের। একমাত্র সুরাহার পথ এই সরকারের পরিবর্তন।” তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের উপপ্রধান কিংবা শওকত মোল্লার এখনও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।