Islampur Firing: বুকের পাঁজর এফোঁড়-ওফোঁড় করে গুলি! দিনের আলোয় প্রধান শিক্ষকের খুনে মোড় ঘোরাচ্ছে তাঁর ফোনে কথাবার্তাই
Firing at School Teacher: এদিনও স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে।

বিশ্বরূপ বিশ্বাস ও প্রসেনজিৎ চৌধুরীর রিপোর্ট
উত্তর দিনাজপুর: সাতসকালে ইসলামপুরে শুটআউট। স্কুলে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল এক শিক্ষকের। আজ, শনিবার সকালে ইসলামপুরের মাদারিপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ইসলামপুরের আমবাগান মোড়ে বাড়ি নজরুল ইসলামের। তাঁর কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।প্রতিদিনের মতো এদিনও স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল। একটিই গুলি এ-ফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় ইসলামপুরের ওই প্রধান শিক্ষককে। তাঁর পাঁজর ভেদ করে গুলি ঢুকে যায় দেহে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসকরা ওই শিক্ষককে মৃত বলে ঘোষণা করে। পরিবারের তরফে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষকের উপরে যে বা যারা গুলি চালিয়েছিল, তারা পলাতক। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে এই হামলা, কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেনই বা হঠাৎ দুষ্কৃতীরা নিশানা করল প্রধান শিক্ষককে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নজরুল ইসলামের সঙ্গে কারোর কোনও শত্রুতা ছিল না। তবে তাঁর ছেলের দাবি, কাউকে টাকা ধার দিয়েছিলেন, কিন্তু ফেরত পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে দিন দুয়েক আগে কারো সঙ্গে টেলিফোনে বচসাও হয়। এরপরেই আজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু। শিক্ষকের ছেলে বলেন, “অনুসরণ করা হয়েছিল। রাস্তা ফাঁকা ছিল। সেই সময়ে বাবাকে পাশ থেকে গুলি করা হয়।”
স্কুলের শিক্ষকরাও জানিয়েছেন যে কারোর সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ঝামেলা ছিল না। কেউই বুঝতে পারছেন না। এক শিক্ষক বলেন, “প্রধান শিক্ষক হিসাবে উনি খুবই ভালো, কর্তব্য়পরায়ণ। উনি সবসময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এই ঘটনায় আমরা খুবই আশ্চর্য হয়ে গেলাম।”
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, রেইকি করেই খুন করা হয়েছে ওই শিক্ষককে। অনুসরণ করে, খুব পাশ থেকে গুলি করা হয়, যার জেরে মৃত্যু হয় প্রধান শিক্ষকের। জানা গিয়েছে, যে এলাকায় আজ গুলি চলে, এর আগে ঠিক তার পাশেই, মাদারিপুরে একটি হোটেলে তৃণমূল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
