
তেহরান: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ। থমকে গিয়েছে বিশ্বের তেল সরবরাহ (Oil Supply)। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে কিছু বন্ধু দেশের ট্যাঙ্কার জাহাজকে যাতায়াত করতে দিলেও, তার বদলে মোটা অঙ্কের শুল্ক নিচ্ছে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই বিকল্প রুট খুঁজে বের করল তিনটি ট্যাঙ্কার। ইরানের হরমুজ প্রণালীর উপরে ভরসা না করে, অন্য রুট ধরে সমুদ্র পার করল তারা। কোন রুট এটা?
জানা গিয়েছে, ইরানের জলসীমা ব্যবহার না করে, ওমানের তিনটি ট্য়াঙ্কার হরমুজ প্রণালীতে ঢুকেছে নিজেদের উপকূল ধরে। প্রাপ্ত স্যাটেলাইট সিগন্যাল অনুযায়ী, দুটি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পূর্ব দিকে এগোচ্ছে।
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ। তবে কিছু বন্ধু দেশকে যাতায়াত করতে দিচ্ছে ইরান। তবে এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ব বাজারে ক্রমাগত তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ছে। বৃহস্পতিবারই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরনা (IRNA) সূত্রে জানা গিয়েছে যে ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি বলেছেন যে তেহরান ওমানের সঙ্গে একটা প্রোটোকল তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলাচলে নজরদারি করার জন্য এই প্রোটোকল তৈরি করা হবে। যদিও ওমান এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ইরান ইতিমধ্যেই টোল নিচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য। আনুমানিক ২ মিলিয়ন ডলার করে নেওয়া হচ্ছে প্রতি জাহাজ পিছু।
এই পরিস্থিতিতে ওমানের তিন জাহাজের বিকল্প রুট দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এগুলি সবথেকে বড় মাপের তেলের ট্যাঙ্কার। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম এলএনজি ক্যারিয়ার, যা মধ্য প্রাচ্যকে এড়িয়ে হরমুজে ঢুকল।
যখন জাহাজগুলি পার করছিল, তখন তারা জানিয়েছিল যে ওমানি। এরপরে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ নিজেদের অটোমেটেড পজিশন সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তাই বোঝাও যাচ্ছে না যে ওমানের মুসানদাম উপকূলে পৌঁছে গিয়েছে জাহাজগুলি নাকি অন্য কোথাও যাচ্ছে। এই ট্যাঙ্কারগুলিতে প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড তেল রয়েছে। তবে এলপিজি ক্যারিয়ারটি ফাঁকা ছিল বলেই জানা গিয়েছে।
যে তিনটি ট্যাঙ্কার বিকল্প পথে হরমুজ প্রণালী পার করছে, তাদের মধ্যে একটিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রুড তেল ভরা হয়েছিল। এই জাহাজের মায়ানমার যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে পাইপলাইনে পশ্চিম চিনে ক্রুড তেল যাওয়ার কথা। আরেকটি জাহাজ আবু ধাবিতে ক্রুড তেল ভরেছে। তবে কোথায় যাবে ওই জাহাজ, তা জানা গিয়েছে।