
তেহরান : হরমুজ় প্রণালী নিয়ে বারবার ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। ইরান বলছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল বাদে বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ় প্রণালী খোলাই রয়েছে। কিন্তু, ভারত বলছে সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক তেলবাহী জাহাজের জন্য ইরানের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে আলোচনায় বসতে হচ্ছে। এখনও হরমুজ়ে আটকে রয়েছে ভারতের প্রায় ২০টি জাহাজ। তাহলে ইরান কি কোনও বড় খেলা খেলতে চাইছে? প্রশ্ন-ধোঁয়াশার মাঝেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বন্ধু ভারতের জন্য হরমুজ় খোলা রয়েছে। ভারত ছাড়া আরও কয়েকটি দেশের অবাধ প্রবেশের অনুমতি রয়েছে হরমুজ়ে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতসহ বন্ধু দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। কোন কোন দেশকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? এই বিষয়ে আরাগচি বলেন, “আমরা চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানসহ বন্ধু দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছি।”
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালী মূলত শত্রু দেশ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়। এটি কেবল শত্রুদের জন্য বন্ধ। আমাদের শত্রু ও তাদের বন্ধুদের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণ নেই।”
সম্প্রতি, রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে। তেল, গ্যাস থেকে সার…সরবরাহ প্রায় বন্ধ। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আরাগচি হরমুজ় প্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তাহলে কি হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল? যতক্ষণ না পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নিরাপদে সব জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ধোঁয়াশা হয়তো কাটবে না, এমনটাই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। আবার কেউ বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অস্থিরতা, ধোঁয়াশা থাকবে।