
৫ বন্ধু দেশকে ছাড় ইরানের, ভারতে তেলের দাম কমবে?
কলকাতা : মধ্যপ্রাচ্যে চলছে সংঘাত। ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। এর মধ্যেই ভারতের জন্য বড় খবর। ভারতের জন্য খুলে গেল হরমুজ প্রণালী। ভারত সহ মোট ৫ দেশকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে দিল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ৫ ‘বন্ধু রাষ্ট্র’কে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ভারতের নামও। ইরানের সরকারি টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে এই খবর জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আরাগচি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন,”আমরা চিন, রাশিয়া, ইরাক, ভারত ও পাকিস্তানকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি।” যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রাস্তা বন্ধ থাকলেও ইতিমধ্যেই ভারতের ৪টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মাঝেই প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দেয় ইরান। এমনকি জ্বালানি ভর্তি জাহাজগুলিকে আক্রমণ করে ইরানের সেনা। কিন্তু আরাগচি জানিয়েছেন, এই ৫ বন্ধু রাষ্ট্রের উপর কোনও হামলা করা হয়নি। এমনকি এই দেশগুলির যাত্রাপথেও কোনও বাধা দেয়নি ইরান। ইতিমধ্যেই আরাগচি জানিয়েছেন,”বহু দেশ ও জাহাজ কোম্পানির মালিক হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য আবেদন করেছিল। ওই নিৰ্দিষ্ট প্রণালী দিয়ে যাতে তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারে, সেই বিষয়েই অনুরোধ করেছে তারা। এরমধ্যে ৫ দেশকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র হওয়ার কারণে ছাড় দিয়েছি। বাকি অন্য দেশগুলিকে ছাড় না দেওয়ার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে ভারতে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। গোটা দেশে জ্বালানির আকাল। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছুঁয়ে ফেলেছে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলার। রান্নার গ্যাস বুক করলে বাড়ি আসতে সময় লাগছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন। বেসরকারি তেল সংস্থা ‘নায়ারা এনার্জি’ প্রতি লিটার পেট্রোল ৫ টাকা ও প্রতি লিটার ডিজেল ৩ টাকা বাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার লিটার প্রতি ১০ টাকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে ভারতের কাছে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও ১ মাসের এলপিজি গ্যাস মজুত রয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, জলদিই দেশব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সমাপ্তি হবে।
ভারত ও ইরানের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ফলে মাঝপথে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন সরাসরি ভারতে পৌঁছাবে। ফলে বাজারে তেলের যোগান বাড়বে ও সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের দীর্ঘদিনের দ্রুত সমস্যা কমে যাবে। সংকটের মেঘ কাটিয়ে ভারত এখন জ্বালানি নিরাপত্তার পথে অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।