
তেহরান : ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা ডেডলাইনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার পাল্টা ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বোধের মতো কাজ করেছেন। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য উড়ে এসেছে তেহরানের তরফে। দুই দেশের হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যে ফের নতুন করে উদ্বেগ, উত্তেজনা বাড়ছে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দুই দেশের মধ্যে এখনই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছে না আন্তর্জাতিক মহল। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শনিবার রাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইনের কথা। শর্ত না মানলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে ইরানকে। এমনকী নরক নেমে আসবে বলে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্পকে কড়া জবাব দিয়েছে ইরানও। তেহরানের সেনা সদর দফতরের প্রতিনিধি জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদির মন্তব্য, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি অসহায়, ভারসাম্যহীন এবং নির্বোধের মতো।
আলি আবদোল্লাহি বলেন, “পরপর হারের, আমেরিকার আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট ভারসাম্যহীন, অসহায় হয়ে উঠেছে। নির্বোধের মতো কাজ করছে। ইরানের পরিকাঠামো ও জাতীয় সম্পদকে নিশানা করার হুমকি দিচ্ছেন।” ট্রাম্পকে কড়া আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমেরিকা বা ইজ়রায়েল যদি হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজ়রায়েলের পরিকাঠামোর উপর লাগাতার ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালানো হবে। এই সংঘাত বাড়লে, আমেরিকার সামনে নরকের দরজা খুলে যাবে।”
উল্লেখ্য, শান্তিচুক্তি স্থাপন এবং হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ২৬ মার্চ ইরানকে ১০ দিনের সময় দিয়েছিল। শর্ত না মানলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই ডেডলাইন হল ৬ এপ্রিল। ট্রাম্প সেই কথাই মনে করিয়ে দেন ইরানকে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন,”মনে আছে যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে দশ দিন সময় দিয়েছিলাম। সেই সময় ফুরিয়ে আসছে। ৪৮ ঘণ্টা পরেই নরক নেমে আসবে।” কিন্তু, ইরানের সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল, তারা আমেরিকার সামনে মাথা নত করবে না। এখন আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ৪৮ ঘণ্টা পর ইরানে বড়সড় হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।