
তেহরান: এক মাস পার হয়ে গিয়েছে। যুদ্ধ থামার নাম নেই। ইরানের লাগাতার হামলায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল সাপ্লাইয়ের পরিকাঠামো। কোথা থেকে তেলের জোগান আসবে, তাই নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে ওপেক (OPEC) অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ। তেল উৎপাদন, বিশেষত তেল সরবরাহের রাস্তা তড়িঘড়ি খুঁজে বের করতে আক্ষরিক অর্থেই মরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি।
সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপর লাগাতার হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে সামগ্রিক তেল উৎপাদনের ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভয়ঙ্করভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে তৈল ভাণ্ডার ইরাক।
ইরান বন্ধু দেশ হিসেবে ঘোষণা করলেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে মার্চ মাসে তেলের রাজস্বে (oil revenue) ৭০ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক।
ইরাকের অর্থনীতির বাজেট রাজস্ব বা রেভিনিউয়ের ৯০ শতাংশই আসে তেল রফতানি থেকে। তবে ইরান যুদ্ধের জেরে সেই রাজস্ব আসার পথ আটকে গিয়েছে। এই বিপর্যয় সামলাতে গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার মধ্যে দিয়ে ট্যাঙ্কার ট্রাক ব্যবহার করে তেল সরবরাহের চেষ্টা করছে ইরাক।
এদিকে, ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল উৎপাদনও কমেছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে কোথা থেকে তেল জোগাড় হবে, তা নিয়েই বৈঠকে বসল ওপেক অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ। প্রসঙ্গত, ওপেক (Organization of the Petroleum Exporting Countries) হল তেল রফতানিকারক দেশগুলির একটি জোট, যারা বিশ্ব তেলের উৎপাদন ও দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।