খামেনেইয়ের কুর্সিতে নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পহেলভি! ইরানে ফের রাজতন্ত্র?
Iran-America Conflict : ১৯৭৯ সাল থেকে আমেরিকাতেই রয়েছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ। ওই সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর বাবা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই ইরান থেকে নির্বাসিত হন পহেলভি। খামেনেই খতম হতেই ক্ষমতায় ফিরবেন বলে আত্মবিশ্বাসী পেহলভি। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে রেজা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেন। পোস্টে লেখেন, ইরানে নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করা হবে। এবার আগামীর পথ স্বচ্ছ হবে। ইরানে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ভোট হবে।

তেহরান : ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। তাঁর মেয়ে-জামাই, নাতিরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এখন প্রশ্ন হল খামেনেইয়ের জায়গা কে নেবেন ? কে হতে চলেছেন ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার ? আলোচনায় রয়েছে একাধিক নাম । তবে, সবথেকে বেশি আলোচনা চলছে নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পেহলভিকে নিয়ে। তাঁকে সর্বোচ্চ আসনে বসানোই ট্রাম্পের লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পেহলভি। তাহলে কি ফের ইরানে ফিরতে চলেছে রাজতন্ত্র?
আমেরিকার কৌশল
সাধারণত দেখা গিয়েছে, যে দেশে আক্রমণ চালাবে বলে ঠিক করে আমেরিকা, সেখানে প্রথমে অভ্যন্তরীণ বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়, তারপর সরকার পাল্টে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই, নিজের পছন্দ অনুযায়ী কোনও নেতাকে সর্বোচ্চ আসনে বসান ট্রাম্প। ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় নাম রয়েছে রেজ়া পেহলভির। তিনি নির্বাসিত যুবরাজ। তবে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই তাঁকে আবার ইরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এমনটাই শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইরানের সর্বোচ্চ স্থান তাঁকেই দেওয়ারই পরিকল্পনা করে ফেলেছেন ট্রাম্প।
এই মুহূর্তে ইরানের শাসনক্ষমতা চালানোর জন্য একটা সর্বোচ্চ কাউন্সিল তৈরি করা হয়েছে। একটা অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিল তৈরি হয়েছে। আপাতত, এই কাউন্সিলও সরকার চালাচ্ছে। এছাড়া, আলি লারিজানিও ইরানের ক্ষমতায় আসতে পারেন। তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। ইরানের সুপ্রিম লিডার হওয়ার দৌঁড়ে তাঁর নামও রয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, ৬৭ বছরের আলির উপরই ভরসা ছিল খামেনেইয়ের। অন্যদিকে,IRGC-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা খামেনেই। তিনিও সুপ্রিম লিডার হতে পারেন। জানা গিয়েছে, পরবর্তী সুপ্রীম লিডার বেছে নেবে ৮৮ জন সদস্যের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট। এই বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে ইরানের চিফ জাস্টিসও।
কিন্তু, ট্রাম্প চাইছে রেজাকে ফিরিয়ে আনতে। অন্যদিকে, খামেনেই খতম হতেই ক্ষমতায় ফিরবেন বলে আত্মবিশ্বাসী পেহলভি। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে রেজা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেন। পোস্টে লেখেন, ইরানে নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করা হবে। এবার আগামীর পথ স্বচ্ছ হবে। ইরানে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ভোট হবে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সাল থেকে আমেরিকাতেই রয়েছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ। ওই সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর বাবা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই ইরান থেকে নির্বাসিত হন পহেলভি।
এর আগে নির্বাসিত যুবরাজকে নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, পহেলভিকে ভাল মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু, ইরানের জনগণ তাঁকে গ্রহণ করবেন কি না, সেই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেক্ষেত্রে পহেলভিকে পূর্ণ সমর্থন আদৌ করবেন কি না ট্রাম্প, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । তবে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই পহেলভির পোস্ট আলাদা জল্পনা তৈরি করেছে।
