AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

EXPLAINED: ইরানের পাশে কেন দাঁড়াল না মুসলিম দেশগুলি?

Muslim Countries on Iran: মুসলিম দেশগুলি ইরানের সাহায্য এগিয়ে তো আসছেই না। উল্টে আরব দেশগুলিতে ইরানের হামলা নিয়ে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্ব লিগ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর নিন্দা করে মুসলিম বিশ্ব লিগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা এবং শান্তি-সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।

EXPLAINED: ইরানের পাশে কেন দাঁড়াল না মুসলিম দেশগুলি?
মুসলিম বিশ্বেও কোণঠাসা ইরানImage Credit: PTI
| Updated on: Mar 01, 2026 | 2:47 PM
Share

তেহরান: বিবাদটা আজকের নয়। ইরান ও ইজরায়েলের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। কিন্তু, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা সেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার পরই বদলাচ্ছিল পরিস্থিত। শেষপর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে কার্যত মহাযুদ্ধ বেধেছে। ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। তারপরই পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। কিন্তু, ইরানের এই অবস্থায় আশ্চর্যজনকভাবে চুপ বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম দেশ। কিন্তু, কেন? ইরানের এই ‘দুর্দিনে’ কেন তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না? কেন অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে না?

ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় আজ বিধ্বস্ত ইরান। বিশ্বের একাধিক দেশের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক থাকলেও এখন কার্যত ‘একঘরে’ খামেনেইয়ের দেশ। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলির ‘চুপ’ থাকার পিছনে নানা কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই জন্য ইরানকেই কাঠগড়ায় তুলছেন তাঁরা। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

তাঁদের বক্তব্য, হিজবুল্লা, হামাস, হুতির মতো জঙ্গিগোষ্ঠীকে সাহায্য করে ইরান। জঙ্গিগোষ্ঠী প্যালেস্তিনিয়ান ইসলামিক জিহাদকে সাহায্যের অভিযোগ রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। এই সব জঙ্গিগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর এর জন্য ইরানকে অনেকাংশে দায়ী করছে মুসলিম দেশগুলি।

আবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, জর্ডনের মতো দেশগুলি ইরানকে শুধু সাহায্য করতে অস্বীকারই করেনি, দেশের আকাশসীমা ইজরায়েলের জন্য খোলা রেখে পরোক্ষে ইজরায়েলকে সাহায্য করেছে। ওই অঞ্চলে শিয়া-সুন্নি সমস্যার জন্য আরব দেশগুলির এই পদক্ষেপ বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ইরানে ৯০-৯৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম। আর ৫-১০ শতাংশ সুন্নি মুসলিম।

মুসলিম দেশগুলি ইরানের সাহায্য এগিয়ে তো আসছেই না। উল্টে আরব দেশগুলিতে ইরানের হামলা নিয়ে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্ব লিগ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর নিন্দা করে মুসলিম বিশ্ব লিগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা এবং শান্তি-সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।

ইরান নিয়ে পাকিস্তানের কী অবস্থান?

ইরানের পাশে যে তারা রয়েছে, তা দেখানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। একইসঙ্গে জানিয়েছে, প্রত্যাঘাত করার অধিকার রয়েছে ইরানের। কিন্তু, ওই বিবৃতিই সার। যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে তারা। অর্থাৎ মুখে বলছে, পাশে রয়েছি। কিন্তু, সাহায্যের বেলায় দূরে সরে থাকা।

মুসলিম দেশ না হলেও চিনকে ইরানের সমর্থনে মুখ খুলতে দেখা যায়। ইরানের উপর ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেজিং। অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানিয়েছে বেজিং। সবপক্ষকে আলোচনা শুরুর বার্তা দিয়েছে। অর্থাৎ পুরোপুরি ইরানকে সমর্থন করছে না তারা।

চিনের মতো তুরস্ককেও বিভিন্ন সময় ইরানের সমর্থনে মুখ খুলতে দেখা যায়। এবার ইরানের উপর ইজরায়েল-আমেরিকার হামলার নিন্দা করেছে তারা। একইসঙ্গে আরব দেশগুলিতে ইরানের হামলারও নিন্দা করেছে। যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়া আটকাতে মুসলিম বিশ্বের কাছে আবেদন জানিয়েছে তুরস্ক। সবমিলিয়ে মুসলিম বিশ্বে কোণঠাসা ইরান।