
কলকাতা: আক্ষরিক অর্থেই একেবারে কথার ঢক্কানিনাদ তবে অর্থহীন। দিল্লি যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এই বাজেট, ‘একেবারেই ফুল অফ সাউন্ড অ্যান্ড ফিউরি।’ এবারের বাজেটে দেশ জুড়ে সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর মধ্যে একটি জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। সঙ্গে ক্যানসার, ডায়াবেটিসের ওষুধ-সহ বেশ কিছু ওষুধের দাম কমা আর তিনটি করিডর। এই বাদে বাংলার জন্য আলাদা করে আর বিশেষ কিছু? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘একেবারেই বঞ্চিত বাংলা।’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই বাজেট একেবারেই দিগভ্রান্ত, ভিশনলেস, মিশনলেস, অ্যাকশনলেস!” এই বাজেট আদতে বাংলার অর্থনীতি, সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও প্রভাব ফেলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই বাজেট একেবারেই গরিব বিরোধী, জনবিরোধী, কৃষক বিরোধী। তাঁর মতে, বাজেটে এমন কোনও ক্ষেত্রের উল্লেখ নেই, যাতে যুব সমাজ উপকৃত হবেন। যদিও বাজেটে TCS কমেছে, তাতে বিদেশে পড়াশোনার খরচ কমছে। যাঁরা মেডিক্যাল ও উচ্চশিক্ষার কারণে বিদেশে যাবেন, তাঁদের জন্য TDS-এ ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাজেটে, মোদীর রাজ্য গুজরাতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে নয়া ফ্রেট করিডর গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন নির্মলা। হুগলির ডানকুনি থেকে পশ্চিমে সুরাতকে যুক্ত করবে সেই ফ্রেট করিডর। বারণসীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের প্রধান শহর শিলিগুড়িকে জুড়বে হাইস্পিড রেল করিডর। সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বাংলায় ইতিমধ্যেই ৬টি করিডরের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, যেটা গোটা বাংলাকে জুড়বে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”
বাংলাকে কিচ্ছু দেয়নি, রেলওয়ে বাজেটে যে করিডরের কথা বলেছে, সেটা আমি ২০০৯ সালে আমি বাজেটে পেশ করেছিলাম। আমি ডানকুনি অমৃতসরের কথা বলেছিলাম। ওরা তিনটে করিডরের কথা বলেছে বাজেটে। আমরা ইতিমধ্যেই ৬টা ইকোনমিক্স করিডরের। জঙ্গলমহলে জঙ্গলসুন্দরী প্রজেক্টের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়ায় কাজ চলছে। ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “বাজেটে কিছু কথার খেলা হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিসও বলতে পারবেন, যেখানে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন? হামটি ডামটি বাজেট।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বাংলায় হারবে জেনেই এই বাজেট। তিনি বলেন, “তারা জানে বাংলায় হারবে, তার জন্যই এসআইআর করেছিল। আমি তাদের বলব রাজনৈতিকভাবে লড়ুন, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা বন্ধ করুন। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রতে হারতে হয়েছে, এই কারণেই। বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ুতেও হেরে যাবে।”