Good Credit Score: ক্রেডিট স্কোর ৮০০? তবুও বাতিল হতে পারে ঋণের আবেদন! কেন জানেন?
CIBIL Score: অনেকেরই ধারণা ক্রেডিট স্কোর ভাল থাকলেই ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ আলাদা। ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক আপনার মাসিক আয়, আগের ঋণের অ্যামাউন্ট, চাকরির স্থায়িত্ব ও ঋণের যোগ্যতার মতো একাধিক বিষয় দেখে। তাই স্কোর ৮০০ হলেও ঋণের আবেদন বাতিল হতে পারে।

কলকাতা : সময় মতো ঋণের ইএমআই জমা দিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ডের বিলও মিটিয়েছেন। সব মিলিয়ে আপনার ক্রেডিট স্কোর ৮০০। তাই নতুন ঋণের জন্য ব্যাঙ্কে আবেদন করে নিশ্চিত ছিলেন যে এবার হয়ত ঋণ পেয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবেদন বাতিল হয়ে গেল। তাহলে? এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই অবাক হন। কারণ, তাঁদের ধারণা ক্রেডিট স্কোর ভাল থাকলেই ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ আলাদা। ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক আপনার মাসিক আয়, আগের ঋণের অ্যামাউন্ট, চাকরির স্থায়িত্ব ও ঋণের যোগ্যতার মতো একাধিক বিষয় দেখে। তাই স্কোর ৮০০ হলেও ঋণের আবেদন বাতিল হতে পারে।
১) মাসিক আয়ের বড় অংশ ইএমআই-তে চলে যাচ্ছে
ধরা যাক, আপনার মাসিক বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আপনার বর্তমান ইএমআই বাবদ খরচ হচ্ছে ১১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নতুন একটি ইএমআই আবেদন করলেন, যার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। বাকি ২০ হাজার টাকা দিয়েই আপনাকে সংসারের বাকি খরচ চালাতে হবে। এমতাবস্থায় ব্যাঙ্ক মনে করতে পারে, আপনার পক্ষে নতুন ঋণ দেওয়া মুশকিল হতে পারে। তাই আবেদন বাতিল হতে পারে।
২) আয়ের উৎস
ক্রেডিট স্কোর ভাল হলেও আয় নিয়মিত না হলেও সমস্যা হতে পারে। যাঁরা সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা এখনও প্রভিশনারি বা ইন্টার্ন পদে আছেন বা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে। একইভাবে, যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁদের আয় প্রতিমাসে এক নয়। এই কারণে ব্যাঙ্ক আয়কর রিটার্ন, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা ব্যবসার নথি দেখতে চাইতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ন্যূনতম বেতন, চাকরির অভিজ্ঞতা ও ব্যবসার মেয়াদ সংক্রান্ত আলাদা শর্ত থাকে। এই শর্ত পূরণ না হলে ব্যাঙ্ক ঋণ দেবে না।
৩) ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের বেশির ভাগ ব্যবহার
সময়মতো ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানো ভাল, কিন্তু যদি আপনি ক্রেডিট লিমিটের বেশির ভাগ অর্থই ব্যবহার করে ফেলেন, তাহলে ব্যাঙ্ক ভাবতে পারে, আপনি দৈনন্দিন খরচের জন্য ক্রেডিটের উপর বেশি নির্ভরশীল। এটিও ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও একাধিক ব্যাঙ্কে এক সময়ে আবেদন না করাও ভাল।
৪) ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল
অনেক সময় ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল তথ্য থাকার কারণে ঋণের আবেদন বাতিল হয়। অর্থাৎ, আপনি ঋণ ১০০% পুরোপুরি মিটিয়ে দিলেও রিপোর্টে বকেয়া দেখাতে পারে। আবার সময়ে টাকা দিলেও কোনও ঋণ এখনও ডিউ বা বকেয়া দেখতে পারে। তাই কোনও ভুল দেখতে পেলেই সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরোতে অভিযোগ জানান। পাশাপাশি যে ব্যাঙ্ক ভুল তথ্য দিয়েছে, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করুন।
স্কোর ৮০০ থাকলেই কি ঋণ নিশ্চিত?
না। ক্রেডিট স্কোর ভাল হলে আপনার ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে ঠিকই, কিন্তু এটি আপনার ঋণ নিশ্চিত করে না। ব্যাঙ্ক আরও অনেক জিনিস যাচাই করে ঋণ দেয়। তাই নতুন ঋণ নেওয়ার আগে নিজের মাসিক আয় ও খরচের হিসেব করুন। নতুন ইএমআই দেওয়ার পরেও যাতে সংসারের খরচ মেটানো যায়, তা খতিয়ে দেখে নিন। আর আবেদন বাতিল হলে বারবার আবেদন না করে সমস্যাটি বুঝে সমাধান করুন।
