
নয়া দিল্লি: জন্মালেই মৃত্যু অবধারিত। মানুষ একটা বয়সের পর কর্মক্ষমতা হারায়, ধীরে ধীরে বার্ধক্যে প্রবেশ করে। অবসর জীবন কাটান তখন। কখনও ভেবে দেখেছেন কি, মানুষের মতো ট্রেন (Train)-ও কি অবসর নেয়? ট্রেন বুড়ো হয়ে গেলে, তার কী হয়? ভারতীয় রেলওয়ে (Indian Railways) এই পুরনো ট্রেনগুলি নিয়ে কী করে?
মানুষের মতো ট্রেনেরও নির্দিষ্ট আয়ু থাকে। নির্দিষ্ট কর্মক্ষমতা থাকে। কোচ, ইঞ্জিন, ওয়াগন-সবই তৈরি হয় মেয়াদ সহ। যেমন প্যাসেঞ্জার কোচ অর্থাৎ পুরনো আইসিএফ কোচের আয়ু ২৫ থেকে ৩০ বছর হয়। আধুনিক এলএইচবি কোচ ৩৫ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এবার প্রশ্ন হল, এরপর কী হয় ট্রেনের?
শুধুমাত্র বয়স হয়ে গেলে অর্থাৎ আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেলেই যে কোনও ট্রেন বা তার কোচ বাতিল করে দেওয়া হয়, এমন নয়। যদি কোনও ট্রেন অসুরক্ষিত হয় বা সারাইয়ের খরচ অনেক বেশি হয় কিংবা প্রযুক্তিগতভাবে পুরনো হয়ে যায়, তাহলেও কামরা বা ইঞ্জিন বাতিল করে দেওয়া হয়।
কিছু ট্রেন পুরনো হয়ে গেলে, তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তখন তা স্ক্র্যাপ করে দেওয়া হয়। সেখানেই আবার কিছু পুরনো প্যাসেঞ্জার কোচ-কে রূপান্তরিত করা হয় মালগাড়িতে। ট্রেনের কামরার সিট, ফ্যান, লাইট খুলে নেওয়া হয়। জানালাগুলি সিল করে দেওয়া হয়। উপরে আরও ধাতব পরত চাপানো হয় কামরাগুলিকে শক্তিশালী ও মজবুত করার জন্য। পরিবর্তিত রূপে আরও ৫-১০ বছর ব্যবহার করা যায় এই কোচগুলি।
যখন ট্রেন আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না, তখন তা স্ক্র্য়াপ করে দেওয়া হয়। একটা একটা করে অংশ খুলে ফেলা হয়। লোহা, স্টিল, তামা, অ্য়ালুমিনিয়াম, ব্রাস আলাদা করে বিক্রি করা হয়। সিট, এয়ার কন্ডিশনার, লাইট, ব্যাটারিও আলাদা করে ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি ‘মিশন জিরো স্ক্র্যাপ’-র অধীনে বিরাট আপগ্রেড করেছে ভারতীয় রেলওয়ে। পুরনো ডিজেল ইঞ্জিন বাতিল করে, তার বদলে ইলেকট্রিক ইঞ্জিন আনা হয়েছে। পুরনো কোচ বাতিল করে, আধুনিক এলএইচবি কোচ আনা হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০০-রও বেশি ইঞ্জিন স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। ৩৭ হাজারেরও বেশি কোচ ও ওয়াগন বাতিল করা হয়েছে।