e
কলকাতা: ১৯৮২ সাল সেই সময়কার সংবাদপত্র, রাস্তার কোনও অপরিচিত দেওয়ালে একটা পোস্টার পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, সামনের টেবিলে পাহাড়-সমান বই, চেয়ারে বসে রয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। হাতে সিগারেট। এটা ছিল একটা বিজ্ঞাপন। তখন সিগারেট যেন ছিল ‘ক্যাপ্টেন কুল’। শুধু পুরুষরাই নয়, ১৯৬০ এর দশকে পশ্চিমী দুনিয়ায় নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক ছিল থিন সিগারেট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সিগারেটের এই প্রতিচ্ছবি সমাজের সামনে অনেকটাই বদলে গিয়েছে। কুল থেকে হয়েছে ক্যান্সারাস। এবার এই প্রতিচ্ছবি বদলের পালা কি এবার মদেরও এসেছে? সুরাবিমুখী হচ্ছে নয়া প্রজন্ম?
ঋগবেদে বলা হয়েছিল, দেবরাজ ইন্দ্র ছিলেন সোমরস আসক্ত। আমোদ প্রমোদ ভালোবাসতেন তিনি। সোমরসকে অনেকেই আজকের যুগের মদের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু সেই নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। যাই হোক, দেবরাজ ইন্দ্রের সোমরস বা সুরা যাই বলি না কেন, তা বেশ পছন্দের হলেও আমার এক পরিচিত, ইন্দ্র সে কিন্তু খুব একটা সুরা পছন্দ করে না। শুধু ইন্দ্রই নয় ওর মতোই অনেক সবে সবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া জেনজি ছেলেমেয়েরা মদ জিনিসটি খুব একটা পছন্দ করছেন না। তবে এই দাবি আমার একেবারেই নয়। বরং বলছে, ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু ভিত্তি কী?
IWSR, এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে মদের বিক্রি, মদ নিয়ে সমাজের দৃষ্টি — এই সকল বিষয়ে আলোচনা করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকা, চিন, ভারত এবং ইউরোপের সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি যতটা মদ বিক্রি করতে পারত, করোনা পূর্ববর্তী বাজারের তুলনায় তার চেয়ে ২ শতাংশ কম করেছে। এক কথায় আন্ডার পারফর্মার। আর করোনা পরবর্তী বাজারে এটা নাকি অপ্রত্যাশিত। শুধু মাত্র ওই বছর কথা বলি, তা হলে গোটা বাজার নেমেছে ১ শতাংশ। একাংশ মনে করতেই পারেন, এই সংখ্যা তো নিমিত্ত মাত্র। সমস্যা কোথায়? আসলে সমস্যাটা ২ শতাংশ বা এক শতাংশ নয়। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এটা নাকি এখন ট্রেন্ড। খোদ আমেরিকায় বাজার পড়েছে ৪ শতাংশ। ভারতেও গড়পড়তা একই অবস্থা। ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মদের বাজারে ১ শতাংশ অবনতি হয়েছে। এই ট্রেন্ড নাকি গত ৬০ বছরে দেখা যায়নি। তা হলে এখন কেন হচ্ছে?
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, জেনজি বা এই জেনারেশন জেডই আসল কারণ। অ্যালকোহল হেল্প নামে একটি সংস্থার প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মিলেনিয়ালস অর্থাৎ যাঁরা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্য়ে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের তুলনায় জেনজি-রা ২০ শতাংশ কম সুরাপ্রেমী। এক কথায় আগের জেনারেশনের তুলনায়, সবে সবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া এই জেনারেশনটা মদ খাওয়ার বিষয়ে একটু নাক উঁচু করে।
এত গেল বিশ্বের কথা। কিন্তু আমাদের বাংলাতেও কি একই অবস্থা? একেবারে সদ্য যাওয়া উৎসবের মাসের কথা তুলে ধরা যাক। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড মদ বিক্রির সাক্ষী থাকে বাংলা। কিন্তু এই বছর তা হয়নি। আবগারি দফতর সূত্রে খরব, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে বাংলায় মদ বিক্রি কমেছে ২০ শতাংশের অধিক কমে গিয়েছে। এদিকে পরিসংখ্যান বলছে, গোটা ভারতে মদ খাওয়ার নিরিখে বাংলা দ্বিতীয়। তা হলে এমন পরিস্থিতি কেন?
মদ খাওয়া মোটেই ঠিক বিষয় নয়, আমরাও এই প্রবণতাকে উৎসাহ জোগাচ্ছি না। কিন্তু একটা কথা খুব স্পষ্ট মদের বিক্রি কমা মানে তার প্রভাব পড়বে রাজস্ব সংগ্রহেও। ওয়াকিবহাল মনে করছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে মদের বিক্রি কমেছে। সচেতনতাও যেমন তৈরি হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধিও একটা চাপ।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মদের দাম। খোদ বাংলাতেই পয়লা ডিসেম্বর থেকে সব রকমের মদের দাম বাড়িয়েছিল রাজ্য আবগারি দফতর। ৭৫০ মিলিলিটার বিদেশি মদের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে রাজ্য। ১৮০ মিলিলিটারের ক্ষেত্রে বোতল প্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দেশি মদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। তালিকার বাইরে বিয়ার।
কমছে মানুষে মানুষে সখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কাছে বন্ধুর সঙ্গে আলাপের সময়ও পাচ্ছে না একটা বড় অংশ। আরও একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে প্রায় প্রতিটি কর্মজীবী মানুষ নিজের বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে এক মাসে সময় কাটাত মাসে ৩০ ঘণ্টা। কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে গিয়েছে ১০ ঘণ্টায়। একাংশের মতে, এটাও একটা বড় ফ্যাক্টর।
এছাড়াও বেড়েছে নাগরিক সচেতনতা। আগের প্রজন্মগুলির তুলনায় জেনজি কিন্তু একটু ডিসিপ্লিনড, স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে। সুতরাং সেই প্রভাবটাও পড়ছে।
কলকাতা: ১৯৮২ সাল সেই সময়কার সংবাদপত্র, রাস্তার কোনও অপরিচিত দেওয়ালে একটা পোস্টার পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, সামনের টেবিলে পাহাড়-সমান বই, চেয়ারে বসে রয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। হাতে সিগারেট। এটা ছিল একটা বিজ্ঞাপন। তখন সিগারেট যেন ছিল ‘ক্যাপ্টেন কুল’। শুধু পুরুষরাই নয়, ১৯৬০ এর দশকে পশ্চিমী দুনিয়ায় নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক ছিল থিন সিগারেট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সিগারেটের এই প্রতিচ্ছবি সমাজের সামনে অনেকটাই বদলে গিয়েছে। কুল থেকে হয়েছে ক্যান্সারাস। এবার এই প্রতিচ্ছবি বদলের পালা কি এবার মদেরও এসেছে? সুরাবিমুখী হচ্ছে নয়া প্রজন্ম?
ঋগবেদে বলা হয়েছিল, দেবরাজ ইন্দ্র ছিলেন সোমরস আসক্ত। আমোদ প্রমোদ ভালোবাসতেন তিনি। সোমরসকে অনেকেই আজকের যুগের মদের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু সেই নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। যাই হোক, দেবরাজ ইন্দ্রের সোমরস বা সুরা যাই বলি না কেন, তা বেশ পছন্দের হলেও আমার এক পরিচিত, ইন্দ্র সে কিন্তু খুব একটা সুরা পছন্দ করে না। শুধু ইন্দ্রই নয় ওর মতোই অনেক সবে সবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া জেনজি ছেলেমেয়েরা মদ জিনিসটি খুব একটা পছন্দ করছেন না। তবে এই দাবি আমার একেবারেই নয়। বরং বলছে, ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু ভিত্তি কী?
IWSR, এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে মদের বিক্রি, মদ নিয়ে সমাজের দৃষ্টি — এই সকল বিষয়ে আলোচনা করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকা, চিন, ভারত এবং ইউরোপের সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি যতটা মদ বিক্রি করতে পারত, করোনা পূর্ববর্তী বাজারের তুলনায় তার চেয়ে ২ শতাংশ কম করেছে। এক কথায় আন্ডার পারফর্মার। আর করোনা পরবর্তী বাজারে এটা নাকি অপ্রত্যাশিত। শুধু মাত্র ওই বছর কথা বলি, তা হলে গোটা বাজার নেমেছে ১ শতাংশ। একাংশ মনে করতেই পারেন, এই সংখ্যা তো নিমিত্ত মাত্র। সমস্যা কোথায়? আসলে সমস্যাটা ২ শতাংশ বা এক শতাংশ নয়। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এটা নাকি এখন ট্রেন্ড। খোদ আমেরিকায় বাজার পড়েছে ৪ শতাংশ। ভারতেও গড়পড়তা একই অবস্থা। ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মদের বাজারে ১ শতাংশ অবনতি হয়েছে। এই ট্রেন্ড নাকি গত ৬০ বছরে দেখা যায়নি। তা হলে এখন কেন হচ্ছে?
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, জেনজি বা এই জেনারেশন জেডই আসল কারণ। অ্যালকোহল হেল্প নামে একটি সংস্থার প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মিলেনিয়ালস অর্থাৎ যাঁরা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্য়ে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের তুলনায় জেনজি-রা ২০ শতাংশ কম সুরাপ্রেমী। এক কথায় আগের জেনারেশনের তুলনায়, সবে সবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া এই জেনারেশনটা মদ খাওয়ার বিষয়ে একটু নাক উঁচু করে।
এত গেল বিশ্বের কথা। কিন্তু আমাদের বাংলাতেও কি একই অবস্থা? একেবারে সদ্য যাওয়া উৎসবের মাসের কথা তুলে ধরা যাক। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড মদ বিক্রির সাক্ষী থাকে বাংলা। কিন্তু এই বছর তা হয়নি। আবগারি দফতর সূত্রে খরব, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে বাংলায় মদ বিক্রি কমেছে ২০ শতাংশের অধিক কমে গিয়েছে। এদিকে পরিসংখ্যান বলছে, গোটা ভারতে মদ খাওয়ার নিরিখে বাংলা দ্বিতীয়। তা হলে এমন পরিস্থিতি কেন?
মদ খাওয়া মোটেই ঠিক বিষয় নয়, আমরাও এই প্রবণতাকে উৎসাহ জোগাচ্ছি না। কিন্তু একটা কথা খুব স্পষ্ট মদের বিক্রি কমা মানে তার প্রভাব পড়বে রাজস্ব সংগ্রহেও। ওয়াকিবহাল মনে করছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে মদের বিক্রি কমেছে। সচেতনতাও যেমন তৈরি হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধিও একটা চাপ।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মদের দাম। খোদ বাংলাতেই পয়লা ডিসেম্বর থেকে সব রকমের মদের দাম বাড়িয়েছিল রাজ্য আবগারি দফতর। ৭৫০ মিলিলিটার বিদেশি মদের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে রাজ্য। ১৮০ মিলিলিটারের ক্ষেত্রে বোতল প্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দেশি মদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। তালিকার বাইরে বিয়ার।
কমছে মানুষে মানুষে সখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কাছে বন্ধুর সঙ্গে আলাপের সময়ও পাচ্ছে না একটা বড় অংশ। আরও একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে প্রায় প্রতিটি কর্মজীবী মানুষ নিজের বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে এক মাসে সময় কাটাত মাসে ৩০ ঘণ্টা। কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে গিয়েছে ১০ ঘণ্টায়। একাংশের মতে, এটাও একটা বড় ফ্যাক্টর।
এছাড়াও বেড়েছে নাগরিক সচেতনতা। আগের প্রজন্মগুলির তুলনায় জেনজি কিন্তু একটু ডিসিপ্লিনড, স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে। সুতরাং সেই প্রভাবটাও পড়ছে।