
নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ভারতে আগমন। সেই সূত্র ধরেই হল বৈঠক। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান অ্যান্টোনিও কোস্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে আলোচনা হয় ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে। যার সারমর্ম হল, সব পক্ষই আশাবাদী। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে, জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল।
শুল্ককে হাতিয়ার করে ট্রাম্পের সাঁড়াশি-চাপ রুখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করেছিল নয়াদিল্লি। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেই আলোচনা এখন পরিণতি পেতে চলেছে। তবে এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা এই পরিণতির পথকে অনেকটাই পরিপক্ক করেছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিকে গ্রিনল্য়ান্ড ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াকিবহাল মহলে মতে, এই চাপের আবহে ভারতের দিকে ঝোঁক বেড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের।
সোমবারই ভারতের বাণিজ্যসচিব জানিয়েছেন, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত-বাণিজ্য় নিয়ে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার তা ঘোষণা করা হতে পারে। এবার প্রশ্ন, যদি বহুপ্রতীক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তা হলে নয়াদিল্লির কী লাভ? কতটা অগ্রগতি হবে ভারতের? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাড়তি অক্সিজেনের জোগান দেবে। ইউরোপের সেফ প্রকল্পের অংশ হবে ভারত। যার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য় রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বাণিজ্য়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে নয়াদিল্লি। এছাড়াও বাড়বে কর্মী আদান-প্রদান। বাড়বে বাণিজ্যিক মুনাফাও।