৩৬ বছর আগে রামায়ণ দেখিয়ে কত টাকা লাভ করেছিল দূরদর্শন, জানেন?
Ramayana: সালটা ১৯৮৭। ২৫ জানুয়ারি দূরদর্শনে সম্প্রচার শুরু হয়েছিল রামায়ণের। অভিনেতা অরুণ গোভিল অভিনয় করেছিলেন শ্রী রামের চরিত্রে, দীপিকা চিকালিয়া সীতার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এই শোয়ের নির্মাতা ছিলেন রামানন্দ সাগর।

নয়া দিল্লি: কেবল টিভি তো দূরের কথা, তখন অনেকের বাড়িতে টেলিভিশনই পৌঁছয়নি। কিন্তু রবিবার সকাল হলেই গোটা পরিবার, গোটা পাড়া ভিড় জমাত টেলিভিশনের সামনে। সকাল ১০ টা থেকে শুরু হত রামারণ। ৮ থেকে ৮০, সকলেই মুখিয়ে থাকতেন বইয়ে পড়া মহাকাব্য পর্দায় দেখতে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল রামায়ণ, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও জায়গা করে নিয়েছিল এই শো। সম্প্রচারের ৩৬ বছর পরও, এখনও লোকমুখে ঘোরে রামায়ণের কথা। এত জনপ্রিয় এই শো, তা তৈরি করতে কত খরচ হয়েছিল জানেন? শো সম্প্রচার করে কতই বা লাভ করেছিল দূরদর্শন?
সালটা ১৯৮৭। ২৫ জানুয়ারি দূরদর্শনে সম্প্রচার শুরু হয়েছিল রামায়ণের। অভিনেতা অরুণ গোভিল অভিনয় করেছিলেন শ্রী রামের চরিত্রে, দীপিকা চিকালিয়া সীতার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এই শোয়ের নির্মাতা ছিলেন রামানন্দ সাগর। তবে জানেন কী, রামায়ণের আগে তিনি তৈরি করেছিলেন আরেকটি শো, যা হিট হওয়ার পরই রামায়ণ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। এই শো হল বিক্রম বেতাল। ১৯৮৬ সালে “বিক্রম অউর বেতাল” শো সম্প্রচার শুরু হয়। প্রতি এপিসোড পিছু খরচ হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা।
বিক্রম-বেতাল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরই রামায়ণ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন রামানন্দ সাগর। একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেন বাজেট। বিক্রম -বেতালের প্রতি এপিসোড পিছু যেখানে ১ লক্ষ টাকা খরচ হত, সেখানেই রামায়ণের প্রতিটি এপিসোড তৈরি করতে খরচ হত ৯ লক্ষ টাকা।
দিনটা কিন্তু আজকের নয়, ১৯৮৭ সাল। সেই সময়ে প্রতি এপিসোড পিছু খরচ ৯ লক্ষ টাকা! বর্তমানে তা আনুমানিক ৯০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ এক একটি এপিসোড তৈরি করতেই প্রায় কোটি টাকা খরচ হত। টাকার মূল্যের এই ফারাকটা সহজ করে বুঝতে গেলে, ১৯৮৭ সালে ডলারের দাম ছিল ১২ টাকা ৯৬ পয়সা। সেখানেই বর্তমানে প্রতি ডলারের দাম ৮৩ টাকা।
ওই সময়ে এত টাকা পাওয়ার জন্য প্রযোজকদের দুয়ারে ঘুরতে হয়েছিল। কোলগেট সংস্থা প্রথম রামায়ণের স্পনসর হতে রাজি হয়। এরপর হিন্দুস্তান লিভারও স্পনসর হিসাবে যোগ দেয়। অরবিন্দ মাফাটাল বিশেষভাবে আর্থিক সাহায্য় করেছিলেন রামায়ণ তৈরি করতে।
খরচ যেমন হয়েছিল, তেমনই রামায়ণের বিপুল দর্শকও ছিল। যখন প্রথম সম্প্রচার শুরু হয়, তখন ৪০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৪ কোটি মানুষ এই শো দেখেছিলেন। বিবিসির তথ্য় অনুযায়ী, ৫০টিরও বেশি দেশে সবথেকে বেশি দেখা শো হল রামায়ণ। বিশ্বজুড়ে ৬৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৬৫ কোটিরও বেশি মানুষ রামায়ণ দেখেছেন। এই শো সম্প্রচার করে দূরদর্শন নব্বইয়ের দশকেই ২৩ কোটি টাকা আয় করেছিল, বর্তমানে যা ২৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
৩৩ বছর পর, ২০২০ সালে লকডাউনের সময় ফের রামায়ণ সম্প্রচার করা হয় দূরদর্শনে। এবারও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে রামায়ণ।
