S-400, Indian Air Defence: চিনের দাক্ষিণ্যেই কি ভারতের আকাশ সুরক্ষা?
China and Indian Air Defence: ভারতের প্রধান শত্রু চিন। অথচ ভারতের আকাশ আগলানোর প্রধান অস্ত্রটির 'লাইফলাইন' বা সাপ্লাই চেন সেই চিনেরই হাতে! ড. ওয়াটলিং একে ‘স্ট্র্যাটেজিক প্যারাডক্স’ বলেছেন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে মাইক্রোচিপ থেকে রেডার—সবকিছুর জন্যই তারা চিনের ওপর নির্ভরশীল।

অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য যদি মুদ্রার এক পিঠ হয়, তবে অন্য পিঠটি বেশ ভয়ের। যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম পাকিস্তানকে জবাব দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ভোঁতা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ? লন্ডনের RUSI এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. জ্যাক ওয়াটলিং-এর রিপোর্ট বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কারখানা এখন কার্যত চিনের দখলে।
সমস্যা ঠিক কোথায়?
২০১৮ সালে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারত পাঁচটি এস-৪০০ রেজিমেন্ট কিনেছিল। তিনটি হাতে এসেছে, কিন্তু বাকি দুটির ডেলিভারি ঝুলে আছে। RUSI-র রিপোর্ট বলছে, রাশিয়ার হাতে থাকা ৭০ শতাংশ মেশিন টুলস বা যন্ত্রাংশ চিনের তৈরি। ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার নিজস্ব অনেক প্রযুক্তি অকেজো হয়ে যাবে। তখন মেরামতি বা নতুন পার্টসের জন্য মস্কোকে পুরোপুরি বেজিংয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
ভারতের ‘কৌশলগত জুয়া’
সমস্যাটা এখানেই। ভারতের প্রধান শত্রু চিন। অথচ ভারতের আকাশ আগলানোর প্রধান অস্ত্রটির ‘লাইফলাইন’ বা সাপ্লাই চেন সেই চিনেরই হাতে! ড. ওয়াটলিং একে ‘স্ট্র্যাটেজিক প্যারাডক্স’ বলেছেন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে মাইক্রোচিপ থেকে রেডার—সবকিছুর জন্যই তারা চিনের ওপর নির্ভরশীল।
ভারত যদি ভবিষ্যতে চিনের মুখোমুখি হয়, তখন এস-৪০০-এর স্পেয়ার পার্টস বা সফটওয়্যার আপডেট কি চিন সরবরাহ করতে দেবে? প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্দরে এখন এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে। সস্তায় রুশ তেল কেনা এক জিনিস, কিন্তু চিনের দাক্ষিণ্যে নিজের আকাশ পাহারা দেওয়া—এটা কি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নয়?
