বিবেকানন্দর এককথাতেই তৈরি হয়েছিল টাটা সাম্রাজ্য, সেদিন জাহাজে জামশেটজিকে কী বলেছিলেন স্বামীজি?

তাঁরা আর কেউ নন, স্বামী বিবেকানন্দ এবং জামশেদজি টাটা। তবে শুধু সাক্ষাত নয়, জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এই দুই মহামানবের বার্তালাপ থেকেই তৈরি হয়েছিল ভারতীয় শিল্পীর উজ্জ্বল ইতিহাস। শুরুটা অবশ্য হয়েছিল স্বামীজির এককথাতেই। তাঁর সেই ভাবনা, দর্শন থেকেই জন্ম নেয় টাটা সাম্রাজ্য।

বিবেকানন্দর এককথাতেই তৈরি হয়েছিল টাটা সাম্রাজ্য, সেদিন জাহাজে জামশেটজিকে কী বলেছিলেন স্বামীজি?

|

Jan 12, 2026 | 4:19 PM

সালটা ১৮৯৩। জাপানের ইয়োকোহামা থেকে কানাডার ভ্যাঙ্ককুভরগামী জাহাজ ‘এসএস এম্প্রেস অফ ইন্ডিয়া’। সেই জাহাজের প্রথম শ্রেণিতে আলাপ হয়েছিল ভারতের দুই মহান ব্যক্তির, একজনের পরনে গেরুয়া বসন, অন্যজন ভারতের অন্যতম দূরদর্শী শিল্পপতি। তাঁরা আর কেউ নন, স্বামী বিবেকানন্দ এবং জামশেটজি টাটা। তবে শুধু সাক্ষাত নয়, জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এই দুই মহামানবের বার্তালাপ থেকেই তৈরি হয়েছিল ভারতীয় শিল্পীর উজ্জ্বল ইতিহাস। শুরুটা অবশ্য হয়েছিল স্বামীজি এককথাতেই। সেই এককথাতেই তৈরি হয়েছিল টাটা সাম্রাজ্য।

কী ঘটেছিল?

শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন স্বামীজি, আর জামশেটজি যাচ্ছিলেন শিল্পের কাঁচামাল ও প্রযুক্তির খোঁজে। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে স্বামীজি জামশেদজিকে সোজা প্রশ্ন করেছিলেন, যে প্রযুক্তির খোঁজে যাচ্ছেন, তাঁর চাবিকাঠি তো থাকবে ব্রিটিশদের হাতে! কেন তিনি বিদেশ থেকে ইস্পাত আমদানি করছেন? সেদিন জামশেটজিকে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, ভারত কেবল কাঁচামাল আমদানি করে শিল্প গড়তে পারবে না; বরং ভারতেই ইস্পাত কারখানা গড়া দরকার। আর এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন উন্নত মানের শিক্ষার। ভারতের যুব সমাজকে বিজ্ঞানের শিক্ষায় শিক্ষিত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বামীজি। জামশেটদজিকে তৈরি করতে বলেছিলেন এক উন্নতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার হাত ধরেই শিল্পের দিক থেকে ভারত উন্নতির পথে হাঁটবে।

স্বামীজির সেই যুক্তি জামশেটজির হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে জামশেটজি টাটা যখন ভারতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করেন, তখন ১৮৯৮ সালে স্বামীজিকে একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “আমার মনে হয় সেই জাহাজের কথা আপনার মনে আছে। আমি ভারতে একটি বিজ্ঞান কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবছি, যেখানে আপনার দর্শনের সঙ্গে বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটবে।”

স্বামীজি সেই সময় অসুস্থ থাকলেও তিনি তাঁর শিষ্যা সিস্টার নিবেদিতাকে এই প্রকল্পের তদারকি করতে পাঠিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণা এবং নিবেদিতার উপস্থিতিতে মহীশূরের মহারাজার জমিতে তৈরি হয় আজকের প্রখ্যাত ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স’ (IISc)। যদিও এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরির পূর্ণ রূপ দেখে যেতে পারেননি দুই প্রাণপুরুষের কেউই।

আজকের টাটা স্টিল বা জামশেদপুর শহর যে নৈতিকতা ও জনকল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার বীজ বপন করা হয়েছিল সেই দিন জাহাজের ডেকেই। জামশেটজি টাটা স্বামীজির ‘মানুষ গড়ার’ দর্শনে এতটাই বিশ্বাসী ছিলেন যে, তিনি টাটা গ্রুপের মূল ভিত্তি হিসেবে কেবল মুনাফা নয়, বরং সমাজসেবা ও বিজ্ঞানমনস্কতাকে বেছে নিয়েছিলেন।