
কলকাতা: ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা খারিজ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যা ছটা থেকে অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা আগে থেকে এই বিধি কার্যকর হবে। তবে ভোটের দিন সকাল থেকে পারিবারিক কাজে বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহার করা যাবে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়ে, যে সমস্ত নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশন নিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বাইকে নিষেধাজ্ঞা। কমিশনের পূর্ব ঘোষিত নিয়মে ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে।
আদালতের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচনের সময়ে বাইক নিয়ে যে বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন, তা করা হয়েছে কোন আইনি বলে? জানতে চাওয়া হয়, কেন কেবলমাত্র বাইককেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম লাগু হচ্ছে না? কমিশন সওয়াল করেন, বাইকে করে যাতায়াত করলে, অনেক সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায় নাকা চেকিংয়ের পয়েন্টগুলি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে আর ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। পরিবর্তে, ভোটগ্রহণের আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে অর্থাৎ ভোটের মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে থেকেই এই বিধি কার্যকর থাকবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের আগের দু-তিন দিন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ মসৃণ হয়।
শুধু তাই নয়, ভোটের দিন ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আদালত ছাড় দিয়েছে। এদিন সকাল থেকে পারিবারিক প্রয়োজনে কিংবা জরুরি কোনো কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে বাইক চালকদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। আদালতের এই রায়ে নির্বাচনী আমেজে থাকা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যন্ত্রণার কিছুটা সুরাহা হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।