
বেহালা: পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বেহালার সখেরবাজারে। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি বাধে। অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে ভাঙচুর চালান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পাল্টা বিজেপির সভামঞ্চে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ডায়মন্ড হারবার রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে বিজেপির সভামঞ্চের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রবিবার বেহালার সখের বাজার মোড়ে বিজেপির একটি সভা হচ্ছিল। সেখানে বক্তব্য রাখার কথা ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের। ওই সভার জন্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পতাকা লাগাচ্ছিলেন। অভিযোগ, পতাকা লাগাতে বাধা দেয় তৃণমূল। বচসা থেকে হাতাহাতি বাধে। ওই সভামঞ্চের কিছুটা দূরেই তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অফিস। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা সেই অফিসে ভাঙচুর চালান।
তারপরই এলাকা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিপ্লব দেব বক্তব্য রাখার পর তৃণমূলের কর্মীরা গিয়ে বিজেপির সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে সভামঞ্চে। চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীদের বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।
এদিকে, দুই দলের কর্মীদের সংঘর্ষের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূলের দুই বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। আপাতত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়ে সতর্ক পুলিশ। দুই দলই অবশ্য পরস্পরকে তোপ দেগেছে। বিজেপির অভিযোগ, সভা ভন্ডুল করতে তৃণমূলের লোকজনই আগুন লাগিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি গন্ডগোল বাধিয়েছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনও বাকি নেই। তার আগে এই রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগে দেবাশিস কুমার বলেন, “বাংলায় গণতন্ত্র রয়েছে বলেই তো মঞ্চ বাঁধতে পেরেছিলেন। এসআইআর ষড়যন্ত্র কাজ করছে না বুঝতে পেরেই সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপি একাজ করেছে।” অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, “এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না।”