Partha Chatterjee: তৃণমূল জমানায় প্রথমবার বিধানসভার কমিটিতে, পার্থর ‘ফেরা’ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
Partha Chatterjee in assembly committee: পার্থকে বিধানসভার কমিটিতে রাখা নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিধায়করা দুটি কমিটিতে থাকেন। বিধানসভা কমিটি ও কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটি। ফলে বিধায়ক পদ না গেলে নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটিতে থাকেন। পার্থবাবুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।"

সৌরভ গুহ
কলকাতা: এগারো সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি মন্ত্রী থেকেছেন। কিন্তু, সব বদলে গিয়েছে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব গিয়েছে। তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে। তিন বছরের বেশি জেলে কাটিয়ে এখন তিনি জামিনে মুক্ত। আর তৃণমূল জমানায় প্রথমবার বিধানসভার কমিটিতে জায়গা পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কারা জায়গা পান বিধানসভার কমিটিগুলিতে? প্রথমবার বিধানসভার কোন কোন কমিটিতে জায়গা পেলেন পার্থ?
বিধানসভার কমিটিগুলির সদস্য নির্বাচিত করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। দুটি কমিটিতে জায়গায় পেয়েছেন পার্থ। একটি লাইব্রেরি কমিটি। অন্যটি আবাসন, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার স্ট্যান্ডিং কমিটি। বিধানসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মন্ত্রী ছাড়া সব বিধায়কদের বিধানসভার কমিটিতে রাখতে হয়। ২০১১ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে যাওয়া পর্যন্ত রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন পার্থ। কিন্তু, এখন আর মন্ত্রী নন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। জেল থেকে ফিরেছেন। তাঁর বিধায়ক পদও খারিজ হয়নি। ফলে তাঁকে কমিটিতে রাখতেই হত।
পার্থকে বিধানসভার কমিটিতে রাখা নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিধায়করা দুটি কমিটিতে থাকেন। বিধানসভা কমিটি ও কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটি। ফলে বিধায়ক পদ না গেলে নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটিতে থাকেন। পার্থবাবুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি আর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্যের মন্ত্রীদের মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের আসন। একসময় ২৯৮ নম্বর আসনে বসতেন পার্থ। এখন ওই আসনে বসেন ফিরহাদ হাকিম। বাজেট অধিবেশনে রাজ্যের মন্ত্রীদের মধ্যে বসার আসন পেয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। এই নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “অমিত শাহজি বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহস থাকলে পার্থ-সহ জেলে যাওয়া বাকিদের টিকিট না দিয়ে দেখান। এখন উনি ভোটে লড়লেও আমরা আশ্চর্য হব না। দুর্নীতিগ্রস্তদের পুরস্কৃত করছে তৃণমূল।”
পার্থর পাশাপাশি বিধানসভায় আসন বদলানো হয়নি ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরেরও। এতদিন হুমায়ুনের আসন ছিল ৬ ব্লকের ২০৯ নম্বর আসন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট অধিবেশনেও একই আসন রয়েছে তাঁর। এদিন এই নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “মুসলিম ভোট যেন অন্য পার্টিতে না যায়, তার জন্য তৃণমূলই হুমায়ুনকে নামিয়েছে। পরে দরকার পড়লে হুমায়ুনকে নিয়ে নেবে। তাই ওর আসন সরায়নি।”
