
কলকাতা: এর আগে তিনবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু, কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি। ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারীকে (দেব) হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানোর নিন্দা করলেন। হিয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানালেন চিঠিতে। চিঠির শেষে কটাক্ষের সুরে মমতা লিখেছেন, “যদিও আমি জানি আপনি উত্তর দেবেন না কিংবা ব্যাখ্যা দেবেন না। তবু আপনাকে জানানো আমার দায়িত্ব।”
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন মাত্র ২ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন। হিয়ারিং শুরু হওয়ার পর ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করেন তিনি। এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তিন পাতার চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী, মহম্মদ শামি, দেব-কে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে চলেছে তৃণমূল। গতকাল দেবকে পাশে নিয়ে এই নিয়ে কমিশনকে খোঁচা দিয়েছিলেন মমতা। আর এদিন চিঠিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো নিয়ে মমতা সরব হন।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এবং ১৭ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নামের বানান সামান্য বদল হলে কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৮-১৯ হলেই হিয়ারিংয়ে ডেকে কেন হয়রানি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন মমতা। চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মমতা লেখেন, “যদিও দেরি হয়ে গিয়েছে। তবু আশা করি, মানুষের হয়রানি কমাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।”
তবে চিঠিতে নজরকাড়ার মতো বিষয় হল একদম শেষে কলম দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “যদিও আমি জানি আপনি উত্তর কিংবা ব্যাখ্যা দেবেন না। তবু আপনাকে সমস্তটা জানানো আমার দায়িত্ব।”