AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Singur: ‘প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য যখন মাঠ পরিষ্কার হচ্ছিল…’, ফের সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনা কতটা?

Singur Tata Factory: জয়মোল্লার বাসিন্দা জিয়ারুল হক শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। সেই জমি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফিরিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কাগজ পেলেও জমি বুঝে পাননি। তিনিও শিল্পের কোনও সম্ভাবনা দেখেন না আর সিঙ্গুরে।

Singur: 'প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য যখন মাঠ পরিষ্কার হচ্ছিল...', ফের সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনা কতটা?
সিঙ্গুরে ফের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 17, 2026 | 5:59 PM
Share

সিঙ্গুর: ভোটমুখী বাংলায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে সিঙ্গুর। আরও স্পষ্ট করে বললে, সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার বিদায়। সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানার গুজরাটে চলে যাওয়ার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। বিজেপি বলছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ফের সিঙ্গুরে কারখানা হবে। আবার যিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সেরাজ্যে গিয়েছিল ন্যানো কারখানা, সেই নরেন্দ্র মোদী রবিবার সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার আগে সিঙ্গুরের বাসিন্দারা কী ভাবছেন? ফের কি সিঙ্গুরে কারখানা গড়ে ওঠা সম্ভব?

মোদীর সভার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে টাটার জমিতে (এই নামেই এখন পরিচিত স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে)। জমি পরিষ্কার হয়েছে। সভামঞ্চ তৈরি হয়েছে। হাতুড়ির আওয়াজ পৌঁছে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কানে। আর সেই আওয়াজ শুনে তাঁদের মনে পড়ছে পুরনো দিনের কথা। স্থানীয় যুবকরা বলছেন, হাতুড়ির আওয়াজ যেন তাঁদের বুকে গিয়ে লাগছে। মোদীর সভাস্থলের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন সিঙ্গুরের জয়মোল্লার যুবক তাপস পাখিরা। ন্যানো কারখানায় কাজের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ওড়িশায় গিয়ে। প্রায় তৈরি হওয়া ন্যানো কারখানা তাঁরাই হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ধুলোয় মিশিয়েছিলেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে তাপস বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য যখন জমি পরিষ্কার হচ্ছিল, তখন বুকের মধ্যে আলাদা অনুভূতি হচ্ছিল।” সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে তাঁরা আর স্বপ্ন দেখেন না বলেও জানান। সিঙ্গুরে অটোমোবাইল কারখানায় কাজ করার কথা ছিল তাপসের। এখন জাতীয় সড়কের পাশের একটি পিচ কারখানায় দিনমজুরিতে কাজ করে সংসার চালান। দেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন, তাই তাঁর সভায় বক্তব্য শুনতে যাবেন বলে জানালেন তাপস।

জয়মোল্লার বাসিন্দা জিয়ারুল হক শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। সেই জমি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফিরিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কাগজ পেলেও জমি বুঝে পাননি। তিনিও শিল্পের কোনও সম্ভাবনা দেখেন না আর সিঙ্গুরে। আবার আলামিন মল্লিক নামে এক যুবক বলেন, “বিজেপি ভোটের আগে হাওয়া গরম করতে শিল্প হবে বলছে। সেসব কিছুই হবে না। যে চেষ্টা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য করেছিলেন সেটা নরেন্দ্র মোদী করবে না।”

বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক সোমনাথ দাস বলেন, “সে সময় যাঁরা চেয়েছিলেন শিল্পটা হবে, সেই শিল্প না হওয়ায় তাঁরা আশাহত হয়েছেন। এটা বাস্তব। ৩৪ বছরের একটা সরকার রাজ্যের শিল্প কলকারখানা ধ্বংস করেছিল। মানুষ অনেক আশা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করেছিলেন। ভেবেছিলেন শিল্প হবে। হয়েছে সিন্ডিকেট। হয়েছে দুর্নীতি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু সিঙ্গুর নয়, অন্য জায়গাতেও শিল্প হবে। কর্মসংস্থান হবে। ভরসা রাখুন।”

সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের একসময়ের নেতা মহাদেব দাস। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল জমি চাষযোগ্য করে কৃষকদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কৃষকরা তাঁদের জমি বুঝে পাননি। তাই আমরা বন্ধা জমি পুনরুদ্ধার কমিটি তৈরি করেছি। বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে চিঠিও দিয়েছি। কোনও শিল্পপতি সরাসরি এসে যদি কৃষকদের থেকে জমি কিনে শিল্প করতে চান, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। আমার জমি আমি কোনও শিল্পপতিকে বিক্রি করতেই পারি। কিন্তু অন্য কেউ দেবে কি না, তার দায় আমাদের নয়।”

Singur Pm Rally

রবিবার সিঙ্গুরে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের নেতা বর্তমানে গোপালনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি অমিয় ধাড়া বলেন, “আমরা শিল্পের বিরোধী নই। জোর করে, লাঠি মেরে জমি দখল করার বিরোধী। ছয়শো একর এক ফসলি জমিতে শিল্প হোক না। কিন্তু বিজেপি কী করে শিল্প করবে? আগে তো আইনি জটিলতা কাটাতে হবে। লকেট চট্টোপাধ্যায়ও সাংসদ হওয়ার আগে বলেছিলেন, শিল্প এনে দেবেন। তিনি এখন প্রাক্তন।”