রামায়ণ নিয়ে রসিকতা, বিজেপি নেতার নিশানায় অভিনেতা প্রকাশ রাজ
প্রকাশ রাজ হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করেছেন এবং রামায়ণের মতো পবিত্র মহাকাব্যকে বিদ্রূপ করেছেন। বিজেপি নেতার দাবি, এই ধরণের মন্তব্য দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তিনি কেবল প্রকাশের বিরুদ্ধেই নন, বরং যাঁরা এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সোজাসাপ্টা কথা বলার জন্য বরাবরই পরিচিত প্রকাশ রাজ। তবে এবার রামায়ণের গল্পকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। গত জানুয়ারি মাসে কেরালা সাহিত্য উৎসবে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য ঘিরে অন্ধ্রপ্রদেশে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা ভানু প্রকাশ।
ভানু প্রকাশের অভিযোগ, প্রকাশ রাজ হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করেছেন এবং রামায়ণের মতো পবিত্র মহাকাব্যকে বিদ্রূপ করেছেন। বিজেপি নেতার দাবি, এই ধরণের মন্তব্য দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তিনি কেবল প্রকাশের বিরুদ্ধেই নন, বরং যাঁরা এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঠিক কী বলেছিলেন প্রকাশ রাজ?
উৎসবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি শিশুদের একটি নাটকের উদাহরণ টেনেছিলেন। প্রকাশ জানান, সেই নাটকে দেখানো হয়েছিল— রাম ও লক্ষ্মণ রাবণের বাগান থেকে ফল খাচ্ছেন। সেখানে রাবণ ও শূর্পণখা উপস্থিত হলে শূর্পণখা রেগে যান, কিন্তু রাবণ বলেন, “ক্ষুধার্তকে খেতে দাও।”
গল্পের মোড় ঘোরে তখন, যখন রাম ফলের দাম দিতে চান। নাটকের স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী, শূর্পণখা নাকি রামের কাছে ২০০০ ডলার এবং জিএসটি দাবি করেন! শেষে টাকা দিতে না পারায় রাবণ রাম-লক্ষ্মণকে শাস্তি হিসেবে বীজ বপন করে গাছ লাগিয়ে দিয়ে যেতে বলেন। রামায়ণের এই আধুনিক ও ব্যাঙ্গাত্মক রূপান্তর প্রকাশ্যে বলাতেই চটেছেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতারা।
আইনজীবী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা— সব পক্ষ থেকেই যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন অভিনেতা নিজে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নীরব। এর আগেও একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে রামায়ণ নিয়ে এই ‘সরস’ মন্তব্যটি তাঁকে নতুন করে আইনি লড়াইয়ের মুখে দাঁড় করাল।
এখন দেখার, পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
