AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

মধ্যরাতে জিয়াগঞ্জের সরকারি কলেজে ‘অনুপ্রবেশ’ আমির-অরিজিতের! CCTV ফুটেজ ঘিরে তোলপাড়

জিয়াগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার রাত ১টা নাগাদ প্রায় দশটি মোটরবাইক নিয়ে জনা কুড়ি লোক কলেজের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেই দলেই ছিলেন আমির খান ও অরিজিৎ সিং। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাত ২টো ২৫ মিনিট পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট তাঁরা কলেজ চত্বরে ছিলেন।

মধ্যরাতে জিয়াগঞ্জের সরকারি কলেজে ‘অনুপ্রবেশ’ আমির-অরিজিতের! CCTV ফুটেজ ঘিরে তোলপাড়
| Updated on: Feb 07, 2026 | 2:38 PM
Share

মিস্টার পারফেকশনিস্ট এবং সুরের জাদুকর— দুই তারকার মহামিলন চাক্ষুষ করতে গত কয়েকদিন ধরেই মুখিয়ে ছিল জিয়াগঞ্জ। কিন্তু আমির খান ও অরিজিৎ সিংয়ের সেই বন্ধুত্বের আবহে এবার মিশল বিতর্কের তেতো স্বাদ। অভিযোগ উঠেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই জিয়াগঞ্জের রানি ধন্য কুমারী কলেজে সদলবলে ঢুকেছিলেন এই দুই মহাতারকা। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
জিয়াগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার রাত ১টা নাগাদ প্রায় দশটি মোটরবাইক নিয়ে জনা কুড়ি লোক কলেজের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেই দলেই ছিলেন আমির খান ও অরিজিৎ সিং। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাত ২টো ২৫ মিনিট পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট তাঁরা কলেজ চত্বরে ছিলেন। অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে তাঁরা কলেজের ইনডোর গেমস হলে ব্যাডমিন্টন খেলেন এবং বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিংও করেন।

ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ অজয় ফেসবুকে সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিখ্যাত মানুষ বলেই কি রাতদুপুরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভাঙার অধিকার তাঁদের আছে? তিনি দাবি করেন, স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে অনুমতি ছাড়াই তাঁরা ভেতরে ঢুকেছিলেন এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কলেজ চত্বর ব্যবহার করেছেন।

তবে নাটকীয় মোড় আসে কিছুক্ষণ পরেই। পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভিডিও এবং অভিযোগের বয়ান মুছে ফেলেন অধ্যক্ষ। পরবর্তী পোস্টে তিনি লেখেন, ‘পোস্টটি ডিলিট করতে বাধ্য হলাম’। কেন তিনি বাধ্য হলেন, তা নিয়ে খোলসা না করলেও স্থানীয় মহলে গুঞ্জন বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে আসা প্রবল ‘চাপ’ ও ‘অনুরোধের’ কারণেই পিছু হটেছেন তিনি।

Dhoni

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অরিজিৎ-ভক্তদের একাংশ বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত আউটিং’ হিসেবে দেখলেও, সচেতন নাগরিকদের বড় অংশ প্রশ্ন তুলছেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে। বিনা অনুমতিতে রাত দেড়টায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুটিং বা খেলাধূলা করা কি আইনত বৈধ? বিশেষ করে যেখানে আমির খানের মতো আন্তর্জাতিক স্তরের তারকা এবং অরিজিতের মতো স্থানীয় আইকন উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অরিজিতের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আপাতত অধ্যক্ষের পোস্ট ডিলিট হলেও বিতর্কের আগুন নেভেনি। জিয়াগঞ্জের শান্ত গলি থেকে শুরু করে সোশাল মিডিয়ার দেওয়াল সবখানেই এখন প্রশ্ন, আইন কি তারকাদের জন্য আলাদা? নাকি পর্দার বাইরের এই কর্মকাণ্ডে সত্যিই কোনো বড় বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে ছিল?